তোবার ৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি

0
51
Toba Survival3
বৃহস্পতিবার দুপুরে তোবার অনশনরত শ্রমিকদের বের করে দেয় পুলিশ। অনশনে অসুস্থ্য এক শ্রমিককে এভাবেই নিয়ে যায় তার স্বজন। ছবি মহুবার রহমান।
Toba Survival3
গত ৬ আগস্ট বকেয়া বেতন-বোনাস নিতে যাওয়া তোবার অনশনরত শ্রমিকদের বের করে দেয় পুলিশ। অনশনে অসুস্থ্য এক শ্রমিককে এভাবেই নিয়ে যান তার স্বজন। ছবি অর্থসূচক।

বহুল আলোচিত তোবা গ্রুপের মালিক দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। তিনি তোবা গার্মেন্টসের জন্য রপ্তানির নামে কাপড় এনে খোলা বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ফাঁকি দিয়েছেন ৫ কোটি ৫৬ লাখ ৮১০ টাকার আমদানি শুল্ক। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে। গত বছরের ৮ নভেম্বর এনবিআর এর নিরীক্ষক দল এ ফাঁকি উদ্ঘাটন করে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে তোবা গার্মেন্টস লিমিটেড (ভ্যাট আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার-বিন ৫০৯১০৬৯০৫৭), ১৬৮২, আনন্দনগর, মেরুন বাড্ডা ঢাকা শাখায় রাজস্ব আদায়ের শুল্ক খাতের ৪ কোটি ৪২ লাখ ৬ হাজার ৫৬৭ টাকার কাপড় আমদানি করেছে।

প্রতিষ্ঠানটি কাপড় আমদানির সময় বন্ড সুবিধা ব্যবহার করেছিল। বন্ড সুবিধায় পণ্য আমদানি করলে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কেবল নিজেদের রফতানিজাত পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করতে পারবেন। এর জন্য কোনো আমদানি শুল্ক দিতে হয় না।কিন্তু স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য কাপড় আমদানি করতে হলে নির্ধারিত হারে শুল্ক দিতে হয়।

কিন্তু তোবা গার্মেন্টস বন্ড সুবিধা নিয়ে শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানি করে তা খোলাবাজারে বিক্রি করে দেয়। এতে দেশের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৫৬ লাখ ৮১০ টাকা।

এ বিষয়ে তোবা গ্রুপের এমডি দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে মুঠো ফোনে আলাপকালে তিনি অর্থসূচককে জানান, তিনি এই বিষয়টি জানেন না। তিনি তার আইনজীবির সাথে কথা বলে পরে জানাবেন। কিন্তু এরপর একাধিকবার ফোনে চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শুল্ক জালিয়াতি করা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বকেয়া রাজস্ব আদায়ের জন্য সঠিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে এনবিআর। এ বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে। সরকারে পক্ষ থেকে নির্দেশনা পেলেই এনবিআর রাজস্ব ফাঁকি দেয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

এদিকে, ঈদের আগে তোবার ৫ কারখানার শ্রমিকদের ৩ মাসের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে ২৮ জুলাই থেকে টানা ১১দিন অনশন করে। এরপর বিজিএমইএ ও তোবার এমডি দেলোয়ার হোসেন মিলে শুধু মাত্র তিন মাসের বেতন শ্রমিকদের প্রদান করেছেন। কারখানার ১৪৯৫ শ্রমিকের ৩ মাসের বকেয়া বেতন ও বোনাস বাবদ ৪ কোটি ১৩ লাখ ৭৭ হাজার ১২৭ টাকা পাওনা ছিল। তবে আবার নতুন করে কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি নিয়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন। এই অজুহাতে এমডি দেলোয়ার হোসেন অনির্দিষ্ট কালের জন্য কারখানাটি বন্ধ করে দিয়েছেন। শ্রম আইন, ২০০৬ সালের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধের এই ঘোষণা কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।