বিষণ্নতা কমায় ব্রেস্ট ফিডিং

0
64
BreastFeeding
নবজাতককে স্তন পান করাচ্ছেন এক মা।

শিশুর জন্মপরবর্তী সময়ে স্তন পান করানো হলে মায়ের বিষণ্নতা কমে।

১৪ হাজার মায়ের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইচ্ছে থাকা সত্বেও যে সব মায়েরা তাদের শিশুকে স্তন পান করাতে পারেন না, তারাই বেশি বিষণ্নতায় থাকেন।

BreastFeeding
নবজাতককে স্তন পান করাচ্ছেন এক মা।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণাটি ‘ব্রেস্ট ফিডিংয়ে অক্ষম নারীদের সহায়তা’ শিরোনামে ‘মা ও শিশু স্বাস্থ্য’ জার্নালে প্রকাশ করা হয়।

গবেষকরা বলছেন, স্তন পান করানোর সুফলগুলো মায়েরা অনেক সময় ভালোভাবে বুঝতে পারেন না। দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের ১৩ হাজার ৯৯৮ জন মায়ের তথ্য নিয়ে দেখা গেছে, বাচ্চা হওয়ার পর ১০ শতাংশ মায়ের বিষণ্নতা বাড়ে।

এতে দেখা গেছে, শিশুকে স্তন পান করালে মায়েদের বিষণ্নতার ঝুঁকি ৫০ শতাংশ কমে। স্তন পান করানোতে অক্ষম মায়েরা দ্বিগুণেরও বেশি ঝুঁকিতে ভোগেন।

একটি মাদার চ্যারিটি সেন্টারের মতে, শিশুকে স্তন পান করানোতে কিছু সুস্পষ্ট সুবিধা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য একটি ‘বিশাল সমস্যা’।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পক্ষ থেকে জন্মের পর প্রতিটি শিশুকে কমপক্ষে ৬ মাস শুধু মায়ের স্তন পান করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গবেষক ড. মারিয়া লাকোভোও বিবিসিকে বলেন, শিশুকে স্তন পান করানোকে মায়ের জন্য এক ধরনের প্রতিরক্ষা বলা চলে। তবে যারা স্তন পান করাতে রাজি থাকেন কিন্তু কোনো কারণে তা করতে পারেন না; তারাই সবচেয়ে বেশি বিষণ্নতায় ভোগেন। জন্মের পর থেকে শিশুকে স্তন পান করানো হলে প্রতি সপ্তাহে এর সুফল বুঝতে পারেন মা।

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু মায়ের ক্ষেত্রে জন্মপরবর্তী বিষণ্নতা দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে না।

ড. মারিয়া বলেন, প্রতিটি মায়ের স্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। শিশুকে স্তন পান করানোর সময় মাকে হরমোনজাতীয় খাদ্য খাওয়ানো উচিত। মায়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি শিশুর বেড়ে উঠায় সাহায্য করে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মায়ের উচিত, তার শিশুকে স্তন পান করানো। এতে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের উচিত, সে সব মায়েদের সাহায্য করা, যারা শিশুদের স্তন পান করাতে রাজি থাকেন কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে পারেন না। স্তন পানে অক্ষমদের চিহ্নিত করে তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ তারা বিষণ্নতার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন।

ড. মারিয়া বলেন, সামাজিক ও মানসিক কারণে কখনও কখনও আমরা ব্যর্থ মা হিসেবে চিহ্নিত হই।

মাদার চ্যারিটি সেন্টার এনসিটি’র সিনিয়র উপদেষ্টা রোসেমারি ডডস বলেন, শিশুর জন্মের পর মায়েরা খুব চাপে থাকেন। শরীরে ব্যথা, ঘুমের সমস্যা এবং নানা ধরনের উদ্বেগের মধ্যে থাকেন তারা।

তিনি বলেন, শিশুকে স্তন পান করানো হলে মায়েরা এসব সমস্যা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পান; কমে মানসিক চাপ।

মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ইস্যু নিয়ে আরও উন্নতমানের গবেষণা করা দরকার বলে মনে করেন ডডস।

ইউএম/এমই/