পদ্মার জন্য সিমেন্ট কোম্পানিগুলোর ইঁদুর দৌড়

0
103
padma-cement
সিমেন্ট কোম্পানির লোগো
padma-cement
সিমেন্ট কোম্পানির লোগো

নির্মাণ প্রক্রিয়ায় থাকা পদ্মা সেতুতে সরবরাহের কাজ পেতে দেশের সিমেন্ট কোম্পানিগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে ইঁদুর দৌড়। দেশী-বিদেশী অনেকগুলো কোম্পানি পদ্মা সেতুতে সিমেন্ট দিতে চায়।তারা ইতোমধ্যে সেতুর ঠিকাদার চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের কাছে তাদের দর প্রস্তাব জমা দিয়েছে। তবে নিজেদের দেওয়া দর প্রস্তাবের উপরই শুধু ভরসা রাখছে না তারা, নানা লবির মাধ্যমে তদ্বিরও চলছে সমানতালে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, গত মাসে চায়না মেজর ব্রিজ সিমেন্ট কোম্পানিগুলোর কাছে দরপত্র আহ্বান করে।এতে ব্যাপক সাড়া পড়ে। দেশী-বিদেশী ও যৌথ উদ্যোগের প্রায় এক ডজন কোম্পানি তাদের দর জমা দেয়। দর জমা দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সেভেন রিং সিমেন্ট, ফ্রেশ সিমেন্ট, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, এমআই (ক্রাউন) সিমেন্ট, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, মেঘনা সিমেন্ট, হোলসিম।

জানা গেছে, চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানিগুলোর দেওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে।তবে সর্বনিম্ন দরই একমাত্র যোগ্যতা হবে না।দরের পাশাপাশি সিমেন্টের গুণগত মান, সরবরাহ চেইন এবং সময়মতো সরবরাহের নিশ্চয়তা ইত্যাদির আলোকে সিদ্ধান্ত নেবে তারা।আর এ লক্ষ্যে শিগগিরই সরেজমিনে কারখানা পরিদর্শন করবে চায়না মেজরের প্রতিনিধিরা।তারপর অনুষ্ঠিত হবে ওয়ান টু ওয়ান ভিত্তিক বৈঠক।এরপরই কেবল সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবে তারা।এ প্রক্রিয়া শেষ করতে এক/দেড় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

জানা গেছে, দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলতি বছরই শুরু হবে। এ সেতু নির্মাণের জন্য নির্বাচিত ঠিকাদার চায়না মেজর ব্রিজ ১২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা দর প্রস্তাব করেছে। এ সেতুর জন্য প্রায় ৫ লাখ টন সিমেন্ট প্রয়োজন হবে।পদ্মা সেতুর নদী শাসন ব্যবস্থার জন্যও প্রয়োজন হবে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টের।তবে সেটি চায়না মেজর ব্রিজ করছে না।চীনের অপর কোম্পানি সিনো হাইড্রো এ কাজ পেয়েছে।এ কাজে ব্যয় হবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।

দেশে বর্তমানে সিমেন্টের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১৮ লাখ টন।গত কয়েক বছর ধরে এটি ১৫ শতাংশের কাছাকাছি হারে বাড়ছে।তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত বছর চাহিদার প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসে। রাজনৈতিক সংঘাতের সাময়িক অবসান, পদ্মা সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে এবং মেট্রোরেলের মতো মেগা অবকাঠামো প্রকল্পের কারণে আগামীতে সিমেন্টের চাহিদা অনেক বেড়ে যাবে। এ কারণে বেশ কিছু কারখানা তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েছে। কোনো কোনোটি আবার নিজস্ব ইউনিট স্থাপনে বিলম্ব হবে ভেবে ছোটো এক বা একাধিক কারখানা ভাড়া নিয়েছে।

সিমেন্টের বর্ধিত চাহিদা পূরণে প্রস্তুতির পাশাপাশি শুরু হয়েছে নানামুখী দৌড়ঝাঁপ।বিশেষ করে পদ্মা সেতুতে সিমেন্ট সরবরাহের কাজ পেতে অনেকেই মরিয়া।উদ্যোক্তাদের কেউ কেউ সরকারের প্রভাবশালী মহল, একটি বিশেষ পাড়া, এমনকি কূটনৈতিক অঙ্গনেও ছোটাছুটি করছেন।

একটি সিমেন্ট কোম্পানির প্রধান নির্বাহী নাম না প্রকাশ করার শর্তে অর্থসূচককে বলেন, পদ্মায় সিমেন্ট সরবরাহের কাজটি শুধু মুনাফার সঙ্গে যুক্ত নয়, এর সঙ্গে কোম্পানির মর্যাদা এবং ব্র্যান্ডিংয়ের বিষয়ও জড়িত।পদ্মা সেতুতে কোনো কোম্পানি সিমেন্ট সরবরাহ করতে পারলে ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য সেটি হবে সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।এতে কোম্পানির উপর সাধারণ ভোক্তাদের আস্থা অনেক বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, আমাদের সব সময় মুনাফাই মূখ্য না।সিমেন্ট সরবরাহের মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো নির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারলে বড় ধরনের প্রশান্তি পাওয়া যাবে, যা কেবল মুনাফায় সম্ভব নয়।