‘পাট শিল্পের উন্নয়নে দরকার রাজনৈতিক দৃঢ়তা’

0
167
Jute2
পাট ও পাটশিল্প রক্ষা কমিটির উদ্যোগে সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে পাটশিল্পের উন্নয়নে নীতিমালা ও পরিকল্পনার বিষয়ক গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: খালেদুল কবির নয়ন

পাট শিল্পের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন এবং পাট পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরে এর ব্যবহার বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘পাট ও পাটশিল্প উন্নয়নে নীতিমালা ও পরিকল্পনা’শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে বক্তারা এই মত দেন। অ্যাকশানএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় এর আয়োজন করে পাট ও পাটশিল্প রক্ষা জাতীয় কমিটি।

Jute
পাট ও পাটশিল্প রক্ষা কমিটির উদ্যোগে সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে পাটশিল্পের উন্নয়নে নীতিমালা ও পরিকল্পনার বিষয়ক গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, প্রতি বছর বিশ্ববাজারে পাট পণ্যের চাহিদা ৬-৭ শতাংশ করে বাড়ছে। তবে ছোট ছোট সমস্যার কারণে বাংলাদেশে এই শিল্পটি পিছিয়ে পড়ছে।

তিনি জানান, ২০১১ সালের পর বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (বিজেএমসি) লাভের মুখ দেখে পারেনি। এর মধ্যে সংস্থাটি সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা লকসান করেছে।

পাট খাতে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে মোয়াজ্জেম বলেন, এই শিল্পকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষম করতে হবে। এজন্য অভ্যন্তরীণ বাজারে রাজনৈতিক দৃঢ়তার দরকার। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও প্রধান্য দিতে হবে। পেমেন্ট সিস্টেম আরও শক্তিশালী করতে হবে।

স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি রাস্তায় বিটুমিনের ক্ষেত্রে পাটের ব্যবহার, আইজেএসডির মাধ্যমে যৌথ প্রচারণা, পাট পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমানো ও পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর জোর তাগিদ দেন তিনি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, পাট শিল্পের উন্নয়নে মাস্টার প্ল্যান দরকার; যার সব কিছুই বাস্তবায়ন করা হবে। বহিঃবিশ্বের কোন বাজার ধরা হবে? কি পরিমাণ পাট পণ্য উৎপাদিত হবে? অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা কীভাবে মিটানো হবে? মোট পাট পণ্যের চাহিদা কত?তার রূপরেখা ওই পরিকল্পনায় থাকতে হবে।

বাংলাক্রাফটের সভাপতি এস.ইউ. হায়দার বলেন, অভ্যন্তরীণ বাজারের চেয়ে বিশ্ব বাজারে পাট পণ্যের চাহিদা অনেক বেশি। তাই রপ্তানি বাড়াতে হলে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। সনাতন মেশিনের পরিবর্তে আধুরিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার জরুরি।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, সরকার পাটশিল্প রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশের ৮৬টি পাট কলের মধ্যে ৬০টিকে বেসরকারি; এগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ২০১০ সালে মাত্র ৬টি সরকারি কল চালু থাকলেও এখন সবগুলো চালু রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের পাট শিল্পের উন্নয়নকল্পে ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের ৪৪টি জেলার ২০০টি উপজেলায় কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও উন্নত বীজ বিতরণ শুরু হয়েছে। পরিকল্পিত চাষের ফলে আগের চেয়ে ৭০-৮৫ শতাংশ উৎপাদন বেড়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাটশিল্পে সরকারের আওতায় মাত্র ১৩ শতাংশ আর বেসরকারি আওতায় ৮৭ শতাংশ রয়েছে। এই শিল্পের সমস্যা নিয়ে শিগগিরই স্টক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

পাট ও পাটশিল্প রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য শহিদুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন-পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড.আর.সি. বর্মন, কাজী রোজী কর্মজীবী নারীর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক বেবী, ডিসিসিআই’র পরিচালক সোয়েব চৌধুরী প্রমুখ।

এসইউএম/এমই/