‘পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাবের দায় বিবি-বিএসইসির’

0
59
CSE_abdul_mojid
সংবাদ সম্মেলনে সিএসই চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ

বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কিছু নির্দেশনার কারণে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জর (সিএসই) চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ। সোমবার সিএসইর ঢাকা অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

আব্দুল মজিদ বলেন, ব্যাংকের মোট বিনিয়োগ সীমা কমিয়ে আনা এবং একক গ্রাহক ঋণসীমা কমিয়ে আনার কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক তালিকাভুক্ত বাংকের মোট মূলধনের ২৫ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। একই সঙ্গে এর অতিরিক্ত বিনিয়োগ ২০১৬ সালের মধ্য কমিয়ে আনার নির্দেশ দেয়। কিন্তু অধিকাংশ ব্যাংকের ২৫ শতাংশের উপরে বিনিয়োগ রয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো নতুন করে বিনিয়োগ করতে পারছে না।

এছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজরের বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য মাস শেষ হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশনার কারণে গত কয়েক মাস ধরে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বাজারে লেনদেন প্রবাহ কমে গেছে। আর গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানেগুলোর একক গ্রাহক ঋনসীমা কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে। এতে পুঁজিবাজারে তাদের বিনিয়োগ হ্রাস পাবে। যা পুঁজিবাজারে নেতিবাচাক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন সিএসই চেয়ারম্যান।

অপরদিকে বিএসইসি জুলাই মাসে মার্জিন লোন পুনর্বিন্যাস করে ১:২ থেকে কমিয়ে ১:০.৫ নির্ধারণ করে দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের কারণে পুঁজিবাজারে তারল্য কমে যাবে। এছাড়া যারা পূর্বের হারে লোন প্রদান করেছে তারাও লোন সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুক্ষিণ হবেন।

তিনি বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তা বাস্তবায় করা যাবে কি যাবে না বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। মার্জিন লোন দেওয়ার সময় বিবেচনা করা হয়নি কারা লোন নিতে পারবেন আর কারা পারবেন না। যা লোন গ্রাহক ও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অধিক হারে মার্জিন লোন দেওয়ার কারণে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে পড়েছে। ফলে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো এখন বিনিয়োগে যেতে পারছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি‘র সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত বাজারের জন্য ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুদ্রানীতিতে বাণিজ্যিক ব্যাংক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের কারণে যে ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছিলো তা মোকাবেলা করার জন্য একটি প্রভিশনিং পদ্ধতি রাখা হয়েছে যা বাজারের জন্য ইতিবাচক।

আর আইপিও আবেদনের সময় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কারণে বিএসইসি সম্প্রতি দুটি কোম্পানির সংশ্লিষ্ট ইস্যু ম্যানেজারকে শাস্তি দিয়েছে। এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আনতে ভূমিকা রাখবে। একই ভাবে বিএসইসি সেপ্টেম্বর থেকে আইপিও আবেদনের জন্য পাইলোট প্রজেক্ট চালুর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পুঁজিবাজারের জন্য আলাদা ট্রাইবুনাল গঠনেরও সিদ্ধান্তও ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন সিএসই চেয়ারম্যান।

আবদুল মজিদ জানান, সিএসই বাজারে অর্থ প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য এসএমই, গ্রোথ ও স্বল্পমূলধনী কোম্পানির জন্য বিকল্প বাজার সৃষ্টির জন্য কাজ করছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রেজেন্টেশনও বিএসইসিকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মার্কেট মেকারে মাধ্যমে বাজারে গভীরতা ও তারল্য সৃষ্টির জন্য সিএসই’র পক্ষ থেকে বিএসইসি’র কাছে বিদ্যমান মার্কেট মেকার রেগুলেশনে কিছু পরিবর্তন আনার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যা এখন বিএসইসির অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

অর্থসূচক/জিইউ/এসএ/