অবিলম্বে কাজ চান তোবা শ্রমিকরা

0
55
Toba Survival2
বৃহস্পতিবার দুপুরে তোবার অনশনরত শ্রমিকদের বের করে দেয় পুলিশ। আহাজারি করতে করতে বের হবে দেখা গেছে শ্রমিকদের। ছবি: মহুবার রহমান
Toba Survival2
ফাইল ছবি

অবিলম্বে কারখানা খুলে দেওয়া এবং আইন অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছেন তোবা গ্রুপের পাঁচ কারখানার শ্রমিকরা। রোববার বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের ব্যানারে এক সমাবেশে এই দাবি জানান তারা।

বক্তারা বলেন, অবিলম্বে আমাদের সাত দফা দাবির প্রধান দাবি- কারখানা চালু করতে হবে। যাতে আমরা আবার কাজ শুরু করতে পারি। আর যদি কারখানা বন্ধই করতে হয় তবে শ্রম ধারা অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধ করুন। একই সঙ্গে পাঁচটি কারখানার ১৪৯৫ জন শ্রমিককে বিজিএমইএভুক্ত অন্য কারখানায় চাকরি দিন।

সমাবেশে বক্তারা কারখানার এমডি দেলোয়ার হোসেনের জামিন বাতিলের দাবিও জানান। সেই সাথে তার সব সম্পতি বাজেয়াপ্ত করে কারখানাগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকায় নেওয়ার দাবি করেন তারা।

অনশনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর পুলিশি হয়রানি বন্ধ করার দাবিও জানান শ্রমিকরা।

তোবা গ্রুপে ৪ বছর ধরে কাজ করা শ্রমিক সন্ধ্যা রানী অর্থসূচককে বলেন, ৩ মাসের যে বেতন আমরা পেয়েছি তা ঋণ শোধ করে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে হলে কাজ করতে হবে। তবে কারখানা বন্ধ থাকলে আমরা কাজ করতে পারবো না। তাই কারখানা খুলে দিতে হবে মালিককে।

আরেক শ্রমিক শেরপুরের জামিলা বলেন, ৬ বছর ধরে কাজ করছি ওই তোবায়। হঠাৎ আবার কোথায় কাজ নিবো। কাজ না করলে অভাবের সংসার ক্যামনে চলবে।

গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, আজ তোবা গ্রুপের ৫টি কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলন করে তিন মাসের বেতন নিতে সক্ষম হয়েছে।

এই আন্দোলন বিজিএমইএ’র কিছু দালাল শ্রমিক শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। তারা শ্রমিকদের সঙ্গে মিথ্যাচার করেছে। বিজিএমইএ কোনো শ্রমিকের স্বার্থ দেখে না।  তারা শুধু তাদের স্বার্থই দেখে। সরকার ও সরকার একজাত।

তিনি আরও বলেন, তোবার মালিক যদি কারখানা বন্ধই করতে চান তবে তা শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতা করে করতে হবে। সেই সঙ্গে শ্রম আইন অনুযায়ী সব পাওনাদি পরিশোধ করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের এমিরেটস প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনীতি টিকে আছে এই মেহনতি মানুষের কল্যাণে। আর গার্মেন্টস  টিকে আছে এদেশের সস্তা শ্রমের কারণে।

তিনি বলেন, শ্রমিকরা কোনো ষড়যন্ত্র করে না বরং মালিকরাই এই ষড়যন্ত্রের জন্য দায়ি। তাই শ্রমিকরা মারা গেলে তাদের বিচার হয় না।

অনুষ্ঠানে আনু মোহাম্মদ বলেন, মালিকরা শ্রমিকদের নায্য মজুরি না দিয়ে পালাতে চেয়েছিল; যেখানে সরকার সহযোগিতা করেছে। তবে শ্রমিকরা শক্তভাবে তাদের আন্দোলন চালিয়ে গেছে।

আজ ৪ হাজার মালিকের কাছে ৪০ লাখ শ্রমিক জিম্মি হয়ে থাকবে এটা হতে পারে না। মালিকরা কারখানার নিয়ন্ত্রণ না নিতে পারলে শ্রমিকরা তার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ, ৩ মাসের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে রাজধানী বাড্ডার হোসেন মার্কেটে অবস্থিত তোবা গ্রুপের পাঁচটি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা ঈদের আগের দিন থেকে টানা অনশন করে আসছিলেন। ঈদের পর পুলিশ অনশনকারীদের পিটিয়ে তাড়িয়ে দেয়। একই সময়ে বিজিএমইএ ভবনে তাদেরকে ৩ মাসের বেতন দেওয়া হয়। এর মাঝেই মুক্তি পান তোবা গ্রুপের মালিক দেলোয়ার হোসেন।