টানা বর্ষণে অচল বন্দর, ত্রিপুরায় খাদ্য পরিবহন বন্ধ

0
63
ashugang-ship-tripura
আশুগঞ্জ বন্দরে ত্রিপুরার চালবাহী ৫ কার্গো জাহাজ
ashugang-ship-tripura
আশুগঞ্জ বন্দরে ত্রিপুরার চালবাহী ৫ কার্গো জাহাজ

টানা ভারী বর্ষণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ আন্তর্জাতিক নৌবন্দরে সকল প্রকার মালামাল উঠানামা বন্ধ হয়ে পড়েছে। একই সাথে গত ৩ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে ভারতের ত্রিপুরায় খাদ্য পরিবহন।

কলকাতার ডায়মন্ড হারবার পোর্ট থেকে ৫ হাজার টন চাল নিয়ে আসা  কার্গো জাহাজগুলো থেকেও চাল খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। চাল পরিবহনে নিয়োজিত অর্ধশতাধিক কাভার্ডভ্যান নৌবন্দরে আটকা পড়েছে। বেকার হয়ে পড়েছে বন্দরের সহস্রাধিক শ্রমিক। পুরো নৌবন্দরে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা।

 

এমনিতেই ভারতের এই চাল পরিবহণের জন্য আশুগঞ্জ নৌবন্দরের স্বাভাবিক অনেকটা বন্ধ। স্থানীয় জাহাজ থেকে মালামাল উঠা-নামা অনেক কমে গেছে। বর্ষণে ভারতের চাল পাঠানো বিলম্বিত হলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাও দীর্ঘায়িত হবে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে গত ৭ আগষ্ট আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর হয়ে ত্রিপুরায় চাল পাঠানো শুরু হয়েছে।গত ৬দিনে ৮০টি কাভার্ডভ্যানে প্রায় ১৩৬০ টন চাল ত্রিপুরায় পাঠানো  হয়েছে।মোট ৫টি জাহাজের মধ্যে এমভি গালফ-৫ জাহাজের চাল পরিবহন শেষ করে এমভি লাভনী-২ জাহাজের চালও খালাস করে পাঠানো শুরু হয়েছিল।কিন্ত টানা বর্ষনের কারণে গতকাল বুধবার থেকে জাহাজ থেকে চাল খালাস ও কাভার্ডভ্যানে লোড করে ত্রিপুরায় পাঠানো দুটোই বন্ধ হয়ে গেছে।গত দিনে প্রায় প্রায় ৭‘শ টন চাল পরিবহন ব্যাহত হয়েছে।পরিবহন ঠিকাদারের প্রায় ১০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।এদিকে টানা ভারী বর্ষনের কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও সকল প্রকার পন্য উঠানামা বন্ধ রয়েছে। এসব কাজে জড়িত শ্রমিকরা যেমন বেকার হয়ে পড়েছে। আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে ব্যবসায়ীরা।
এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ পরিবহন ঠিকাদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহির মিয়া জানান টানা বৃষ্টির কারণে নৌবন্দরের জেটি থেকে গত ৩দিন যাবত স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সকল প্রকার পন্য উঠানামা বন্ধ রয়েছে। এতে করে ফেরীঘাটে কর্মরত সহস্রাধিক সাধারণ শ্রমিকও বেকার হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীদের এসব পণ্য পরিবহনের জন্য বন্দরে আটকা পড়েছে শতাধিক ট্রাক।
এ ব্যাপারে পরিবহন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গালফ ওরিয়েন্ট সিওয়েজ এর লজিস্টিক ব্যবস্থাপক মোঃ নুরুজ্জামান (জামান) জানান, টানা ভারী বর্ষনের কারণে জাহাজ থেকে চাল খালাস করা যাচ্ছে না। তাই ত্রিপুরায় চাল পরিবহন ৩ দিন যাবত বন্ধ রয়েছে। এতে করে প্রতিদিন ৩ লাখ টাকারও বেশী লোকসান গুনতে হচ্ছে। গত ৬ দিনে ৮০টি কাভার্ডভ্যানে ১৩৬০টন চাল ত্রিপুরায় পাঠানো হয়েছে। এমভি লাবনী-২ জাহাজ থেকে চাল খালাস করে ২১ টি কাভার্ড ভ্যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বৃষ্টি বন্ধ হলে পূনরায় ত্রিপরার আগরতলায় চাল পরিবহন চালু করা হবে।
এ ব্যাপারে বিআইডাব্লিওটিএ‘র আশুগঞ্জ নৌবন্দরের পরিদর্শক (পরিবহন) মোঃ শাহ আলম জানান, টানা ভারী বর্ষনের কারণে আশুগঞ্জ নৌবন্দরে সকল প্রকার পন্য উঠানামা বন্ধ রয়েছে। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।