বঙ্গবন্ধুর ১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে ভৈরবে গ্রেফতার হয়েছিলেন যারা

0
41
Bhairab
১৫ আগস্ট ১৯৭৬ সালে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে গিয়ে গ্রেফতারকৃত ২২ জনের মধ্যে ১৪ জন
১৯৭৫ সালে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করার পর এদেশে কয়েক বছর তার নামটি পর্যন্ত কেউ উচ্চারণ করতে সাহস পায়নি। তখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অনেকেই ছিলেন পলাতক নতুবা কারাগারে।

Bhairab
১৫ আগস্ট ১৯৭৬ সালে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে গিয়ে গ্রেফতারকৃত ২২ জনের মধ্যে ১৪ জন

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ১ বছর পর ১৯৭৬ সালে ১৫ আগস্ট তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করার অপরাধে ভৈরবে গ্রেফতার হয়েছিলেন তৎকালীন যুব ও ছাত্রলীগের অদম্য সাহসী ২২ নেতাকর্মী। বঙ্গবন্ধুর নামে মিলাদের আয়োজন করাই ছিলো তাদের অপরাধ।

সামরিক শাসকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ভৈরব থানা পুলিশ সেদিন বঙ্গবন্ধুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর মিলাদ পড়াতে দেয়নি। মৃত্যুবার্ষিকী পালনের সব আয়োজন ব্যর্থ করে দিয়ে সেদিন তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

সেদিন মিলাদের স্থানটি শতাধিক পুলিশ দিয়ে ঘেরাও করে ফেলে। এ সময় পুলিশ আয়োজকদের উপর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে আহত করে। আহতদের সেদিন চিকিৎসা পর্যন্ত করা হয়নি। পরে তাদেরকে ভৈরব থানা-হাজতে আটকে রেখে পরদিন কিশোরগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়। সেদিন যারা গ্রেফতার হয়েছিলেন, মৃত্যুবার্ষিকীর আয়োজক এবং তৎকালীন ভৈরব থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফখরুল আলম আক্কাছ (সাবেক পৌর মেয়র), সাংবাদিক আসাদুজ্জামান ফারুক, রুহুল আমিন, মাহাবুব, মুতিউর রহমান, মফিজুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন (জজ মিয়া), জিল্লুর রহমান (জিল্লু), আসাদ মিয়া, আতাউর রহমান, আসাদুল হক শিশু, দিলিপ চন্দ্র সাহা, দিপেন্দ্র চন্দ্র সাহা, ফজলুর রহমান, আব্দুল হামিদ, ইদ্রিস মিয়া, মাহাবুব আলম, রসরাজ সাহা, সুবল চন্দ্র কর, শাহজালাল, ফিরোজ মিয়া ও আফজাল ভূইয়া। তাদের মধ্যে বর্তমানে ৪ জন বেঁচে নেই।

১৯৭৬ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালনে তৎকালীন যুবলীগ নেতা ফখরুল আলম আক্কাছের নেতৃত্বে আয়োজন করা হয় দোয়া, মিলাদ ও কোরআন খতমের। বিকাল ৪টায় ভৈরব হাজী আসমত কলেজের শহীদ আশুরঞ্জন ছাত্রাবাসে এ আয়োজন করেন তারা। এদিন ১৫জন মৌলভী দুপুরের পর থেকে কোরআন খতম দিতে থাকেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন ওই ২২ জন নেতাকর্মী। কথা ছিল আসরের পর মিলাদ ও দোয়া হবে। কিন্তু মিলাদের আগেই পুলিশ ছাত্রাবাসটি ঘেরাও করে মৌলভীদেরসহ ২২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে ভৈরব থানায় নিয়ে যায়।

তারা সেদিন গ্রেফতারের কারণ  জানতে চাইলে পুলিশ তাদের উপর নির্যাতন চালায়। তবে মিলাদে আসা ১৫ জন মৌলভীকে এদিন মুছলেকা নিয়ে ছেঁড়ে দিলেও ২২জনকে পরদিন কোমরে রশি বেঁধে হাতকড়া লাগিয়ে কিশোরগঞ্জ মহকুমা কোর্টে চালান দেয়। পুলিশ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করায় আদালত তাদেরকে জামিন না দিয়ে জেল হাজতে পাঠায়। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন জেলহাজতে থাকার পর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা সকলেই পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে ছাড়া পান।এ ব্যাপারে ফখরুল আক্কাছ বলেন, বঙ্গবন্ধুর মত মহান নেতার মৃত্যুবার্ষিকী পালনে গ্রেফতার নির্যাতন আর কারাবরণ তো স্বাভাবিক ঘটনা। তিনি বলেন, ‘আমার দুঃখ একটাই যারা সেদিন কারাবরণ করেছিল তারা আজও রাজনৈতিকভাবে নিধারুণ উপেক্ষিত। যারা সেদিন ভয়ে মিলাদে না এসে পালিয়েছিল, তারা আজ ভৈরব আওয়ামী লীগের ক্ষমতাধর বড় নেতা। ৩৯ বছর ধরে এ দুঃখ নিয়ে বেঁচে আছি। কিন্তু আজও রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাদের কোনোই মূল্যায়ন হলো না’।

ইউএম/