উত্তর ইরাকে মানবিক পরিস্থিতি গুরুতর: জাতিসংঘ

0
51
yazidis_civilians_sinjar
সিনজার পর্বতে হাজার হাজার ইয়াজিদি শরণার্থী

ইরাকের উত্তর অংশে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের অগ্রাভিযানের কারণে যে মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে – তাকে সর্বোচ্চ মাত্রার জরুরি অবস্থা বলে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ।

কুর্দি কর্মকর্তারা বলছেন, দহুক প্রদেশে দেড় লাখ শরণার্থী জড়ো হয়েছে এবং সেখানে অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।

কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলছে, জিহাদিদের ভয়ে যে হাজার হাজার ইয়াজিদি ইরাকি সিনজার পর্বতে আশ্রয় নিয়েছে – তাদের উদ্ধারের জন্য কোনো মিশন হাতে নেবার সম্ভাবনা কম, কারণ সেখানে লোকজনের সংখ্যা যত ভাবা হয়েছিল ততো নয়. তাদের অবস্থাও ততোটা খারাপ নয়।

বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে জানায়, জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী ইরাকে সর্ব-সম্প্রতি সহিংসতায় প্রায় ১২লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছেন।

এদের মধ্যে সিনজার পর্বতাঞ্চলে রয়েছে সংখ্যালঘু খ্রিস্টান এবং ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ, যারা ইসলামিক স্টেট যোদ্ধাদের হাত থেকে পালানোর চেষ্টা করছেন।

এদের অনেকের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে জানা যাচ্ছে না।

মাহের নাওয়াফ একজন ইরাকি ইয়াজিদি, যিনি ব্রিটেনে থাকেন। তিনি বলছেন, তিনি তার মা, মেয়ে এবং বোনের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন,এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগে আমি তাদের ফোন করেছিলাম। বলেছিলাম, তারা যেন আরো কোন নিরাপদ জায়গায় চলে যায়। তারা যেন সিনজারে চলে যায়। কিন্তু তারা সেটা করেনি। পরে তারা ফোনে জানিয়েছিল যে অন্যদের সাথে মিলে তারা পালিয়ে যাচ্ছে। এর পর থেকে তাদের কোন খবর আমি পাচ্ছি না।

সিনজারের পার্বত্য এলাকায় আটকে পরা এসব শরণার্থীদের সহায়তা দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সেস বাহিনী সিনজারে একটি স্বল্পমেয়াদী অভিযান পরিচালনা করে।

উদ্দেশ্য ছিল সিনজারের গৃহহীন মানুষদের অবস্থা সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ে তথ্য জোগাড় করা।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র বেন রোডস বলছেন, ঐ অঞ্চল থেকে শরণার্থীদের কিভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা যায়, তারা এখন সেটা বিচার করে দেখছে।

তিনি বলেন, “এখানে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এসব মানুষকে পর্বতাঞ্চল থেকে নিরাপদ নামিয়ে আনা। আর এটা আমরা করবো ইরাকি সরকার আর আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে মিলে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা ডোনাটেলা রোভেরা এখন রয়েছেন উত্তর ইরাকের যাখো এলাকায়, যেখানে প্রতিদিন হাজার পর্বত থেকে নেমে সেখানে তাদের শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছে।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এখানে বিরাট একটা সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

সিনজার পর্বত থেকে হাজার হাজার মানুষ নেমে আসছে।

ইরাকি কুর্দিস্তানেও এসেছেন হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু এখানে তারা যে পরিবেশে থাকছেন সেটা একেবারেই নোংরা এবং অমানবিক।

মার্কিন সরকার ঘোষণা করেছে যে সিনজারের শরণার্থীদের জন্য প্রতি রাতেই তারা বিমান থেকে খাবার এবং পানি নিক্ষেপ করছে।

উত্তরাঞ্চলীয় দহুক প্রদেশের কুর্দি কর্মকর্তারা বিসিরি সংবাদদাতা ফ্রাংক গার্ডনারকে জানিয়েছেন, সেখানে এখন প্রায় দেড় লক্ষ শরণার্থী রয়েছে। কিন্তু তাদের জন্য সাহায্যের পরিমাণ খুবই অপ্রতুল।