‘ইসলামী ব্যাংকের ব্যয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে’

0
37
state minister kamal
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল (ফাইল ছবি)

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের লভ্যাংশের টাকার ব্যয় খাত খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ইসলামী ব্যাংকিং পরিচালনাকারী আরও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও নজরদারি চলছে বলে জানান তিনি।

state minister kamal
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল (ফাইল ছবি)

বৃস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও প্রতিকার’ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে লভ্যাংশ ব্যয়ের একটি প্রতিবেদন দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। সেই প্রতিবেদনে কোনো ফাঁকি আছে কিনা- তা যাচাই-বাছাই করতে গোয়েন্দা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিবাদের অর্থের উৎস খুঁজতে পারলেই জঙ্গিবাদ দমন অনেক সহজ হবে।

জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে গত কয়েক বছর ধরেই আন্তর্জাতিক চাপে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। ওই অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছে এইচএসবিসি যুক্তরাজ্য, সিটি ব্যাংক এনএ ও ব্যাংক অব আমেরিকা।

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটির প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এই ব্যাংকে এমন কিছু অ্যাকাউন্ট হোল্ডার পাওয়া গিয়েছিল, যাদের নাম ছিল জাতিসংঘের সন্দেহের তালিকায়। এসব অ্যাকাউন্টের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ‘লুকিয়েছিল’ ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংকটির আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ‘অনিয়ম-দুর্নীতির’ অভিযোগ থাকায় ২০১০ সাল থেকেই ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংকটির ‘অনিয়ম-দুর্নীতির’ তথ্য চেয়ে গত এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা চেয়ে চিঠিতে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসেছে। এসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিস্তারিত তথ্য জানা প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ব্যাংকটির বর্তমান চেয়ারম্যান আবু নাসের মোহাম্মদ আব্দুজ জাহের মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামে আল বদর বাহিনীর নেতা ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

যুদ্ধাপরাধের জন্য বিচারাধীন জামায়াতে ইসলামীর নেতা মীর কাশেম আলী ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এই সদস্য ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের সদস্য (প্রশাসন)।

ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আব্দুল হান্নানও জামায়াতে ইসলামীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ব্যাংকটির সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. সালেহ হলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের ভাই।

এমই/