বাড়তি লবণে সাড়ে ১৬ লাখ মৃত্যু

0
68

Saltঅতিরিক্ত লবণের কারণে প্রতি বছর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সারা বিশ্বে সাড়ে ১৬ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। গতকাল বুধবার গবেষকরা এই তথ্য জানান।

নিউ ইংল্যান্ড জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, হার্ভাড এবং টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত লবণের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এই গবেষণার জন্য প্রায় ৬৬টি দেশে ২০৫টি জরিপ করা হয়।

প্রধান গবেষক ও টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি বিজ্ঞান কৌশল বিভাগের ডিন দারিয়াশ মোজাফ্ফারিয়ান বলেন, কার্ডিওভাসক্যুলারে (হৃদরোগ) আক্রান্ত হয়ে সারা বিশ্বে প্রতি বছর ১৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। যা মোট মৃত্যুর ১০ শতাংশ।

গবেষণায় বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সারা বিশ্বের খাদ্যে সোডিয়াম কমাতে শক্তিশালী নীতি প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়, ২০১০ সালে গড়ে প্রতিদিন ৩ দশমিক ৯৫ গ্রাম লবণ খাওয়া হতো; যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশের দ্বিগুণ থেকেও ২গ্রাম বেশি। লবণ খাওয়ার এই প্রবণতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন।

অঞ্চলভেদে দেখা গেছে, সাব সাহারান আফ্রিকাতে লবণ খাওয়ার পরিমাণ প্রতিদিন ২ দশমিক ১৮ গ্রাম; যা মধ্য এশিয়ায় ৫ দশমিক ৫১ গ্রাম।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন লবণ খাওয়ার পরিমাণ ৩ দশমিক ৬ গ্রাম। যদিও যুক্তরাষ্ট্র সরকার লবণ খাওয়া ও সোডিয়াম ব্যবহারে ২ দশমিক ৩ গ্রামের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

এই গবেষণায় একজন গবেষক নিউ ইয়র্কের উইনথ্রোপ হাসপাতাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদবিদ্যা বিভাগের প্রধান কেভিন মারজো বলেন, অধিকাংশ মার্কিনি খাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করেন।

একটি জার্নালে প্রকাশিত বার্মিংহাম আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তার সুজান ওপারিলের প্রবন্ধে বলা হয়, খাবারের সময় প্রতিদিন এক চা চামচ লবণ উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। অনুমানের উপর ভিত্তি করে এটি দেওয়া হয়েছে। এতে উচ্চ মানের তথ্যের অভাব রয়েছে।

সুজান বলেন, অপর একটি জটিল প্রশ্ন হতে পারে, কম সোডিয়াম খাদ্য জনস্বাস্থ্যে আঘাত হতে পারে কিনা?

নিউ ইংল্যান্ড জার্নালে প্রকাশিত মেডিসিন বিভাগের অন্য একটি প্রতিবেদনে কম এবং বেশি লবণের ব্যবহারে হৃদরোগের সম্ভাবনার তথ্য-প্রমাণ দেখানো হয়েছে।

মেডিসিন ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ১ বছরের প্রতিবেদন অনুযায়ী সোডিয়ামে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ানোর যৌক্তিক প্রমাণ পাওয়া যায়।

দৈনিক গড়ে ১ দশমিক ৫ গ্রাম থেকে ২ দশমিক ৩ গ্রাম পর্যন্ত সোডিয়ামের ব্যবহারের প্রস্তাব করেছিল ইনস্টিটিউট অব মেডিসিন (আইওএম)। যদিও এখন পর্যন্ত সোডিয়াম ব্যবহারের মাত্রা নির্ধারণে যথেষ্ট গবেষণা করা হয়নি।

নিউ ইয়র্কের ফ্রেঙ্কলিন হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ডেভিড ফ্রেইডম্যান বলেন, সোডিয়ামের ব্যবহার কমানো সম্ভবত খুব কঠিন কিছু নয়।

মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসক ভেলেনটিন ফুস্টার বলেন, মোট ব্যবহারের ৫০ শতাংশের কাছাকাছি সোডিয়াম আসে রুটি, পিজ্জা, স্যুপ, স্যান্ডউইচ, স্ন্যাক্স, চিজ, প্রক্রিয়াজত মাংস থেকে।

সূত্র: জিনিউজ ডট কম

এমই/