পিরোজপুরের জব্বারের বিচার শুরু

0
36
jabbar_sm_827487802
জাতীয় পার্টির নেতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক আব্দুল জব্বার। ফাইল ছবি
আব্দুল জব্বার
ছবি: ফাইল ছবি

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি পিরোজপুরের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার সকালে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-১ জব্বারের অনুপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ধর্মান্তরিতকরণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫টি অভিযোগ  আমলে নেন আদালদ।

আদালত একইসঙ্গে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের দিন ধার্য করেছেন।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জাহিদ ইমাম জানিয়েছেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে জব্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার মধ্য দিয়ে তার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো।

জব্বার পলাতক থাকায় গত ৮ জুলাই ট্রাইব্যুনাল তার অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আসামিপক্ষে মামলা চালাতে রাষ্ট্রীয় খরচে মোহাম্মদ আবুল হাসানকে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

১২ মে তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনীত পাঁচটি অভিযোগ আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। তবে তাকে এখনো গ্রেপ্তার সম্ভব হয়নি। এ আসামি যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে গেছেন বলে তদন্ত সংস্থা সুত্র জানায়। গত ১১ মে এ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৫টি অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- হত্যা, গণহত্যা, ধর্মান্তকরণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ৪৬ জনকে। এর মধ্যে ৪০ জন ঘটনার এবং ৬ জন জব্দ তালিকার সাক্ষী রয়েছে।

আনীত পাঁচ অভিযোগের মধ্যে ১ম অভিযোগে বলা হয়েছে, জব্বার মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়ার ফুলঝড়িতে দুইজন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেন। এছাড়া নাথপাড়া ও কুলুপাড়ার শতাধিক বাড়িতে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করেন।

২য় অভিযোগে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ফুলঝুড়িতে একজনকে হত্যা এবং ৩৬০টি বাড়ি-ঘর লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করেন। ৩য় অভিযোগে বলা হয়েছে, নলিতে ১১ জনকে গণহত্যা ছাড়াও ৬০টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করেন। ৪নং অভিযোগে বলা হয়েছে, ফুলঝড়িতে প্রায় দুইশত নিরস্ত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের লোককে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করেন জব্বার। ৫ম অভিযোগে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় জব্বার আঙ্গুলকাটা এবং মঠবাড়ীয়া থেকে ৩৭ জনকে আটক, মালামাল লুণ্ঠন, অপহরণ, নির্যাতন, ১ জনকে গুরুতর জখম এবং ২২ জনকে হত্যা করেন।

মামলাটি তদন্ত করেন তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মো. হেলাল উদ্দিন। জব্বার ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময় সময় পাক বাহিনীর সহযোগী মঠবাড়ীয়া থানা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান।