কংগ্রেসে ‘পাকিস্তানের এজেন্ডা’: বিজেপি

0
36

india_gujratভারতে ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা চলাকালীন শাসক দল বিজেপি বুধবার অভিযোগ করেছে যে বিরোধী কংগ্রেস তাদের ভাষায় ‘পাকিস্তানের এজেন্ডা’ নিয়ে চলছে।

আসামসহ ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিয়ে কংগ্রেস পরিস্থিতিকে অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে বলেও বিজেপি এদিন মন্তব্য করে।

বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে জানায়, নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আর সংঘর্ষ বাড়ছে, এই অভিযোগ তুলে লোকসভায় তা নিয়ে আলোচনার দাবিতে তুলকালাম করেছিলেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু সরকার সেই দাবি মানার পর শেষ পর্যন্ত বুধবার যখন লোকসভায় সেই বিতর্ক শুরু হল, তখন কিন্তু মি গান্ধী নন – কংগ্রেসের হয়ে মূল বক্তা ছিলেন সভায় তাদের দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়গে।

মি. খড়গে বলেন, গত দু-তিনমাসে দেশে ৬০০রও বেশি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। আর এগুলো ঘটেছে সে সব রাজ্যেই যেখানে সামনে নির্বাচন বা উপনির্বাচন হতে যাচ্ছে। এটা কিছুতেই নিছক সমাপতন হতে পারে না। তবে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার জন্য তিনি যখন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বা বজরং দলের মতো সংগঠনের উসকানি দেওয়াকেই দায়ী করেন, তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন বিজেপি সাংসদরা।

লোকসভার এই বিতর্কে তাদের হয়ে বলার জন্য বিজেপি বেছে নিয়েছিল কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা ও গোরখপুরের গেরুয়া-পরিহিত এমপি যোগী আদিত্যনাথকে, নিজের ওয়েবসাইটে যিনি নিজেকে হিন্দু পুনর্জাগরণের মহানায়ক বলে বর্ণনা করে থাকেন। মি. আদিত্যনাথ বলেন, মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানে যখন পুলিশকর্মীরা দাঙ্গাকারীদের হাতে মার খেয়েছেন বা কাশ্মীরি পন্ডিতরা যখন তাদের ভিটে থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন তখন কংগ্রেস মুখ খোলেনি। কারণ তারা পাকিস্তানের এজেন্ডা নিয়ে চলছে।

সেই সঙ্গে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের মদত দেওয়ার অভিযোগও আনেন তিনি। মি. আদিত্যনাথ বলেন, ”বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের ঢালাও সমর্থন করে এরা গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের সমীকরণই পাল্টে দিয়েছে। আসামের কোকরাঝাড়, ধুবড়ি, চিরাং বা বরপেটার মতো জেলাগুলো যে আজ হিংসাকবলিত, তার কারণ বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীরা এসে সেখানে জমি দখল করে নিয়েছে, আর দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কংগ্রেস তাদের ওয়ার্ক পারমিট বা রেশন কার্ড দিয়েছে।”

আলোচনার প্রায় পুরো সময়টা জুড়েই নানা দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ আর পারস্পরিক দোষারোপ লেগেই ছিল। পশ্চিমবঙ্গের মসজিদগুলোতে ইমামদের মাসিক ভাতা দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে যখন বিজেপি বিভাজনমূলক বলে বর্ণনা করে, তখন তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে তার জবাব দেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁর যুক্তি ছিল, ইমামদের ভাতা দেওয়ার নিন্দা না-করে তারা যদি হিন্দু পুরোহিতদেরও সাম্মানিক ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব দেন, সেটাই বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে উৎসাহিত করবে। সেটাই হবে সঠিক রাস্তা।

লোকসভায় হাতে-গোনা মুসলিম সাংসদদের একজন, হায়দ্রাবাদের এমপি আসাদুদ্দিন ওয়াইসি বলেন, পুলিশ বাহিনীতে যতদিন না সব জাত, সব ধর্মের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব থাকবে ততদিন এই ধরনের দাঙ্গা মোকাবিলা করা যাবে না।

তিনি বলেন, ”দাঙ্গা-হিংসা রোধে পুলিশেরই সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকে, আর তাতে দলিতদের যেমন, তেমনি সব ধর্মের লোককে ঠাঁই দিতে হবে। কিন্তু আমাদের পুলিশ বাহিনী হোমোজিনিয়াস, আর তাই তাদের আচরণও পক্ষপাতপূর্ণ।”

দেশের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি নিয়ে এই উত্তপ্ত আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ ছাড়তে চায়নি কোনও দলই। তবে সময়াভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বুধবার আর বিতর্কের জবাব দিতে পারেননি, তিনি এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার অধিবেশনের শেষ দিনেই সরকারের বক্তব্য জানাবেন