ইরাকে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মাঠে নামছে পশ্চিমা বিশ্ব

0
47

us_iraq_marinesইরাকের উত্তরাঞ্চলে জিহাদী যোদ্ধাদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে এবং হাজার হাজার উদ্বাস্তুকে সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সোয়া ওলান্দ বলছেন, ইসলামিক স্টেট যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াইতে তার সরকার উত্তরাঞ্চলের কুর্দিদের অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করবে।

বিবিসি জানিয়েছে, মি. ওলান্দের অফিস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কুর্দিস্তানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জরুরি অনুরোধের পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইরাক থেকে বিবিসি সংবাদদাতারা বলছেন, একেকটি দিন পার হওয়ার সাথে সাথে উত্তর ইরাকে মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রা স্পষ্ট হচ্ছে।

সেখানে সিঞ্জার পার্বত্য এলাকায় ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিদের হাতে আটকা পড়ে আছে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

গত ক’দিনে তাদের বেশ কয়েকজন পার্শ্ববর্তী শহরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।

এরকম কয়েকজন শরণার্থীর সাথে কথা বলে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক ম্যাথিউ বারবার বলেছেন, তারা সেখানে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ”তারা যে বর্ণনা দিয়েছেন সেটা ভয়াবহ। গতকাল আমি একজনের সাথে কথা বলেছি যার পরিবারের সাতজন সদস্যকে ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিরা অপহরণ করেছে। তার খুব কাছে মানুষ এরা। যেমন, তার কন্যা, নাতি এবং তাদের পাঁচ সন্তান। তারা অত্যন্ত ভয় ও শোকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের পুরো জীবনযাত্রাই ব্যাহত হচ্ছে। তারা স্থানচ্যুত হয়েছেন। আক্রমণে তাদের পরিবারের বহু সদস্য নিহত হয়েছে। আবার অনেকে মারা গেছেন খাবার দাবার, পানি ও ওষুধের অভাবে।”

এরবিলের কাছে শরাণার্থী শিবির

যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন বিমান থেকে এই শরণার্থীদের জন্যে গত কয়েকদিন ধরেই খাবার দাবার ও পানি নিক্ষেপ করে আসছিলো। কিন্তু এখন জঙ্গিদের অগ্রগতি ঠেকাতে সামরিকভাবেও প্রস্তুতি চলছে।

বেসামরিক লোকজনকে জঙ্গিদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্যে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর ১৩০ জনের মতো কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছে উত্তর ইরাকের এরবিলে।

বলা হচ্ছে যে এই সৈন্যরা জঙ্গিদের সাথে কোনো ধরনের যুদ্ধে লিপ্ত হবে না, তারা শুধু মানবিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও স্বীকার করেছেন, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে খুব জরুরি-ভিত্তিতে কাজ করছে ওয়াশিংটন।