‘সাংবাদিকদের বিভক্তির সুযোগে সম্প্রচার নীতিমালা’

0
29
ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া
ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া: ফাইল ছবি

সাংবাদিকদের দ্বিধা-বিভক্তির সুযোগে সরকার সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়নের সাহস পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।

ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া
ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া: ফাইল ছবি

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাসাস ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত ‘গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাবিরোধী সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়নের বিরুদ্ধে’ মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভক্তি না থাকলে ক্ষমতাসীনরা গণমাধ্যমবিরোধী এই নীতিমালা প্রণয়ন করতে সাহস পেতো না। এই সংকটকালে দেশ ও সমাজের স্বার্থে সাংবাদিকদের এক কাতারে দাঁড়ানো উচিত।

তিনি বলেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে জনগণের স্বাধীন মতামত প্রকাশের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার প্রণয়নের ফলে জনগণের সেই স্বাধীন মতামত প্রকাশের অধিকারকে খর্ব করা হয়েছে।

অপহরণ, গুম ও খুনের সাথে সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা জড়িত- এমন অভিযোগে বিএনপির এই নেতা বলেন, মন্ত্রী-এমপিরা প্রতি মাসে ৬-৭ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাঁচার করছেন। তাদের এ অপকর্ম জনগণের কাছ থেকে আড়াল করতেই মূলত সরকার জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।

রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এই নীতিমালার মধ্যে ক্ষমতাসীনরা র‌্যাব-পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীকে নিজেদের ব্যক্তিগত বাহিনীতে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করছে। বিচারিক আদালত কিংবা জেলা প্রশাসন অথবা র‌্যাব-পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে দলীয়করণ করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে যাতে কোনো সংবাদ পরিবেশন কিংবা সম্প্রচার না হয়, সেজন্য এই নীতিমালা। নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কিংবা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়- এমন সংবাদ পরিবেশন করা যাবে না।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ পানির ন্যায্য হিস্যা দেবে না; সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা করবে; সর্বোত্র দূর্নীতি করবে; কিন্তু এসব সংবাদ করা যাবে না। তাহলে দেশে মানবাধিকার ও আইনের শাসন কোথায় থাকবে?

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক ডা.মো. আরিফুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এ.জেড.এম. জাহিদ হোসেন, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা এম.এ. মালেক, মনির খান প্রমুখ।

জেইউ/এমআই/এমই/