৪৫ খুনের আসামি বাইশ্যা ডাকাত গ্রেপ্তার

0
53
আব্দুল হাকিম ওরফে বাইশ্যা ডাকাত
আব্দুল হাকিম ওরফে বাইশ্যা ডাকাত
আব্দুল হাকিম ওরফে বাইশ্যা ডাকাত

চট্টগ্রাম বাঁশখালি এলাকা থেকে ৪৫ খুনের আসামি ও ডাকাত দলের সর্দার আবদুল হাকিম ওরফে বাইশ্যা ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার রাতে বাঁশখালী উপজেলার খুদুকখালীর নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বাশাঁখালি থানা পুলিশ।

কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকা থেকে নোয়াখালি উপকূলীয় এলাকা পর্যন্ত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সংঘদ্ধ একটি ডাকাত দল নিয়ন্ত্রণ করতেন আবদুল হাকিম ।

তার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে কুতুবদিয়া থানায় ৩১ জন জেলেকে বঙ্গোপসাগরের জাহাজখালী নামক স্থানে হত্যা এবং ২০১১ সালে বাঁশখালি থানায় ১১ জনকে পুড়িয়ে হত্যাসহ মোট ৪৫ জনকে খুন করার প্রমাণ পায় পুলিশ। উপকূলীয় অঞ্চলে এবং বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদেরকে জিম্মি করে চাদাঁবাজি, মুক্তিপণ আদায় করতেন তিনি। মুক্তিপণ কিংবা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে খুন করে সাগরে ভাসিয়ে দিত।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার জানান, গত ২ মাস ধরে বাইশ্যা ডাকাততে গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ নজর রেখে অবশেষে সফল হয় পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বাশঁখালী থানায় ১২টি ও পার্শবর্তী থানায় আরও ৪ টি মামলা রয়েছে তুচ্ছ বিষয়ে জেলেদের খুন করে লাশ বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দিতে তার হাত কাঁপে না।

জানা যায় , ২০০২ সালে এবং ২০১০ সালে দু’বার গ্রেপ্তার হলে ১১ মাস জেল খাটার পর জামিনে বের হয়ে যায়। তার বড় বোন রহিমাও হত্যা ও ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার হলেও জামিনে ছাড়া পেয়ে গেছে।

২০১৩ সালের ২ এপ্রিল বাইশ্যা ডাকাত ও তার বাহিনী মিলে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া থানার জাহাজখালী এলাকায় গভীর সমুদ্রে ৩১ জেলেকে নির্মমভাবে খুন করে লাশ পানিতে ভাসিয়ে দেয়। ২০১১ সালে কুতুবদিয়া চ্যানেলে খাটখালী মুখে ১১ জেলেকে খুন করে আগুনে পুড়িয়ে ফেলে। ২০১৩ সালে উখিয়া থানায় এবং কুতুবদিয়া থানায় দুটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ২০১০ সালে কুতুবদিয়া থানায় একটি খুনসহ ডাকাতি মামলা রয়েছে।

এছাড়াও সেপ্টেম্বর কোস্টগার্ড সদস্যরা তার বাড়ি ঘেরাও করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে সে পালিয়ে যাবার সময় সুফি আলম নামে কোস্টগার্ডের এক সোর্সকে হত্যা করে।

তার বিরুদ্ধে বাঁশখালী, আনোয়ারা, মহেশখালী, কুতুবদিয়াসহ উপকূলীয় এলাকার চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, অস্ত্র ব্যবসাসহ নানান অপরাধ কর্মকাণ্ডের গডফাদার ছিলেন তিনি। এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড তিনি বিশাল বাহিনী দিয়ে পরিচালনা করতো।

১৯৭২ সালে জন্ম নেয়া আবদুল হাকিম ৯ ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয়। তার বোন দুর্ধর্ষ ডাকাত রহিমাসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্য ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। বাঁশখালীর ছনুয়া এলাকায় রিফিউজী ঘোনার সরকারি খাসজমি দখল নিয়ে স্থানীয় ছিদ্দিক মাস্টার বাহিনীর সঙ্গে খুদুকখালী বাহিনীর প্রায়ই সংঘর্ষ হত। বাইশ্যা খুদুকখালী বাহিনীর হয়ে অস্ত্র চালাত। ধীরে ধীরে আবদুল হাকিম বাইশ্যা ডাকাতে পরিণত হয়ে নিজে একটি ডাকাত দল গঠন করে ।