১ বছরেও হয়নি দুদকের নতুন অনুসন্ধান দল

0
41
dudok 2
দুদক ও ন্যাশনাল ব্যাংকের লোগো।

থেমে গেছে ন্যাশনাল ব্যাংকের এক হাজার ২০০ কোটি টাকার ঋণ অনিয়মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান। কমিশনের নির্ধারিত অনুসন্ধানকারী দলের প্রধান জাহাঙ্গীর আলম টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ে বদলি হওয়ার ১ বছর পরও গঠিত হয়নি নতুন দল।

dudok 2
দুদক ও ন্যাশনাল ব্যাংকের লোগো।

দুদক সূত্র জানায়, ন্যাশনাল ব্যাংকের বিরুদ্ধে এক হাজার ২০০ কোটি টাকার অনাদায়ী ঋণ শ্রেণিকরণ না করে পুনঃতফসিলের মাধ্যমে গত কয়েক বছর ধরে অতিরিক্ত মুনাফা প্রদর্শনের অভিযোগ আসে দুদকে। বিষয়টি আমলে নিয়ে ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে কমিশনের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে ২ সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করে কমিশন। দলের অপর সদস্য ছিলেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।

সে সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহের পর অনুসন্ধান শুরু করেন তারা। কিন্তু একই বছরের জুলাই মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশে জাহাঙ্গীর আলমকে টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। ফলে প্রাথমিক অনুসন্ধানের পরই থেমে গেছে ১২০০ কোটি টাকা অনিয়মের অনুসন্ধান।

দুদকের পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান অর্থসূচককে জানান, উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম এই অনুসন্ধানের কিছু কাজ করেছিলেন। তার বদলির পর হলমার্ক, ডেসটিনি, পদ্মাসেতু ও বিছমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির মতো বেশ কিছু বিষয়ে ব্যস্ত থাকায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি। তবে খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে বড় আকারের ঋণ নিয়েছে জিএমজি এয়ারলাইন্স, নূরজাহান গ্রুপ ও সিদ্দিক ট্রেডার্স। দীর্ঘদিন পরও ঋণ পরিশোধ করছে না তারা। ব্যবসায়িক বিপর্যয়ে চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান। ঋণ শোধ করার মতো অবস্থা নেই তারা। অজ্ঞাত কারণে ব্যাংকও বারবার এই ঋণ শ্রেণিকরণের বাইরে রেখে পুনঃতফসিল করছে।

সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের নূরজাহান গ্রুপের প্রতিষ্ঠান মেরিন ভেজিটেবল অয়েল ও নূরজাহান সুপার অয়েলের কাছে ন্যাশনাল ব্যাংকের পাওনা ৮১৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে জামানত রয়েছে ৪০০ কোটি টাকার জমি।

কয়েক দফায় ঋণ পরিশোধের সময় বাড়ালেও কোনো অর্থই শোধ করেনি নূরজাহান গ্রুপ। লোন এগেইনস্ট ট্রাস্ট রিসিটে (এলটিআর) তেল আমদানির পর বিক্রি করলেও ঋণ পরিশোধ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

এলটিআর করে ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ৫৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে চট্টগ্রামের সিদ্দিক ট্রেডার্স। তাদের ব্যবসায়িক অবস্থাও নাজুক।

অন্যদিকে বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠান জিএমজি এয়ারলাইন্সের কাছে এই ব্যাংকের পাওনা ৩১৪ কোটি টাকা। এই ঋণের বিপরীতে কোনো জামানত পর্যন্ত রাখেনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বেক্সিমকো গ্রুপের কর্পোরেট গ্যারান্টির ওপর ভিত্তি করেই ঋণ দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, ঋণ শ্রেণিকরণ না করেই হিসাবের অর্জিত সুদ আয় খাতে দেখাচ্ছে ব্যাংকটি।

দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, গত কয়েক বছরে অনাদায়ী ঋণের চিত্র লুকিয়ে রেখে কৃত্রিমভাবে অতিরিক্ত মুনাফা দেখিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কয়েক দফায় নিয়ম না মেনে ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে আসায় এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হলে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে। কিন্তু কাজের ধীর গতির কারণে অনুসন্ধান খুব বেশি দূর আগায়নি।

তিনি বলেন, লোকসানের কথা চিন্তা না করে বছরের পর বছর এভাবে অনাদায়ী ঋণকে পুনঃতফসিল করছে ন্যাশনাল ব্যাংক। বেসরকারি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানটি কেন এমন করছে তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

এমই/