কাঙ্ক্ষিত দর ওঠেনি কোরবানির পশুর হাটে

0
65
animal
কোরবানির পশুর হাটের কাঙ্ক্ষিত দর ওঠেনি । ছবি- মহুবার রহমান
animal
কোরবানির পশুর হাটের কাঙ্ক্ষিত দর ওঠেনি । ছবি- মহুবার রহমান

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার ১১টি স্থানে অস্থায়ীভাবে কোরবানির পশুর হাটের দরপত্র উন্মুক্ত করা হয়েছে মঙ্গলবার। তবে এতে বেশিরভাগের হাটের জন্য কাঙ্ক্ষিত দাম ওঠেনি। কোনো কোনোটির দর গতবারের চেয়ে কয়েক গুণ কমও উঠেছে।

বিকেল নগর ভবন অডিটোরিয়ামে আগ্রহীদের উপস্থিতিতে দরপত্র উন্মুক্ত করেন ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খালিদ আহম্মদ। এসময় ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কবির মাহমুদ ও অতুল মণ্ডল ছিলেন।

এবার ডিএসসিসির ১১টি পশুর হাটের বিপরীতে সিডিউল বিক্রি হয় ১১৩টি। এসব সিডিউলের মধ্যে জমা পড়েছে মাত্র ৩৯টি। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পাঁচটি অঞ্চলসহ নগর ভবনে সংরক্ষিত টেন্ডার বাক্স এবং দুটি বিভাগীয় কার্যালয় সেগুলো জমা পড়ে।

হাজারীবাগ মাঠ পশুর হাটের জন্য মোট ১৯টি সিডিউল বিক্রি হলেও জমা দিয়েছেন মাত্র একজন। মাসুদ রানা নামে ওই ব্যক্তি এই হাটের জন্য দরপ্রস্তাব করেছেন ১১ লাখ ১১ হাজার ১০ টাকা। ২০১৩ সালে এই হাট ইজারা দেওয়া হয় ৫৫ লাখ ৩৪ হাজার ২০ টাকায়।

লালবাগ রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ পশুর হাটের জন্য জমা পড়া তিনটি সিডিউলের মধ্যে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি দর প্রস্তাব করেছে সর্বোচ্চ ৬ লাখ ৬৩ হাজার ২৭৪ টাকা। এছাড়া ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ দর প্রস্তাব করেছেন ৪ লাখ টাকা ও এসএম মাহমুদ আলী দুই লাখ ২০ হাজার টাকা। ২০১৩ সালে এই হাট ইজারা দেওয়া হয় ৬ লাখ ৩১ হাজার ৬৮৯ টাকায়।

মেরাদিয়া পশুর হাটের চার দরদাতার মধ্যে সাবা ইন্টারপ্রাইজ সর্বোচ্চ ৫৬ লাখ টাকা দর প্রস্তাব করেছে। এই হাটের জন্য ইয়াকুব আলী ৪২ লাখ এক হাজার টাকা ও মো. শরীফ ৪০ লাখ ১০ হাজার টাকার দর প্রস্তাব করেন। এছাড়া শামীম ভূইয়া সিডিউল ফরমে কোনো দর উল্লেখ করেননি। ২০১৩ সালে এই হাটে সর্বোচ্চ ২৬ লাখ এক হাজার টাকা দরে ইজারা দেওয়া হয়।

সাদেক হোসেন খোকা মাঠের বিপরীতে ৩৫টি সিডিউল বিক্রি হলেও জমা পড়েছে চারটি।এই হাটের জন্য সর্বোচ্চ দর প্রস্তাব করেছেন মো. আলী ৫৬ লাখ এক হাজার টাকা। এছাড়া আনোয়ার হোসেন ৪৭ লাখ ১০ হাজার, একলাস উদ্দিন রুবাইয়াত ৩০ লাখ, বাবু ভূইয়া ৫৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা দর প্রস্তাব করেন। ২০১৩ সালে এই হাট ২৭ লাখ এক হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়।

গোলাপবাগ পশুর হাটের জন্য বিক্রি হওয়া ৯টি সিডিউলের মধ্যে জমা পড়েছে ৭টি। এই হাটের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ ১০ হাজার টাকা দর প্রস্তাব করেছেন মো. হামিদুল্লাহ। অন্যান্যের মধ্যে নজরুল ইসলাম নিপু দর প্রস্তাব করেছেন ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা, হাজী মো. শহিদুল্লাহ ৬ লাখ টাকা, আনোয়ার আলী মাতবর ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, মুক্তার হোসেন ৫ লাখ টাকা, মো. জাফর উল্লাহ ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ও জমির আলী ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।২০১৩ সালে এই হাট ৬১ লাখ ৬৬ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়।

উত্তর শাহজাহানপুর পশুর হাটের জন্য বিক্রি হওয়া ৩টি সিডিউলই জমা পড়েছে। নুরেন্নবী রাজু দর প্রস্তাব করেছেন ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা, হামিদুল হক শামীম ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও কামরুজ্জামান কমল ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ২০১৩ সালে এই হাট ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়।

ধুপখোলা পশুর হাটের জন্য বিক্রি হওয়া ১১টি সিডিউলের মধ্যে জমা পড়েছে ৩টি।এই হাটের জন্য হাজী মুহাম্মদ শামসুজ্জোহা সর্বোচ্চ ১০ লাখ আট হাজার টাকা দর প্রস্তাব করেছেন। এছাড়া আনোয়ার হোসেন ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও এসএম হোসেন কাজল দর প্রস্তাব করেছেন ৪ লাখ টাকা। ২০১৩ সালে এই হাট ইজারা দেওয়া হয় ৯ লাখ ৪৬ হাজার টাকায়।

ব্রাদার্স ইউনিয়ন সংলগ্ন বালুর মাঠ গোপীবাগ পশুর হাটের জন্য বিক্রি হওয়া ৬টি সিডিউলের মধ্যে জমা পড়েছে ৪টি। এই হাটের জন্য শহিদউদ্দিন আহমেদ সর্বোচ্চ দর প্রস্তাব করেছেন ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া ইলিয়াস খন্দকার ১৬ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা, সুলতান মিয়া ২৩ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা ও শাহাদৎ আহমেদ ১৯ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০০ টাকা দর প্রস্তাব করেছেন। ২০১৩ সালে এই হাটের জন্য সর্বোচ্চ ২১ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়।

পোস্তগোলা পশুর হাটের জন্য বিক্রি হওয়া ৪টি সিডিউলই জমা পড়েছে।এই হাটের জন্য হাজী মো. রুবেল সর্বোচ্চ দর প্রস্তাব করেছেন ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া ঢালী মামুনুর রশীদ ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা, দেলোয়ার হোসেন দুলাল ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও শাহনুর রহমান গাজী ৯ লাখ টাকা প্রস্তাব করেছেন। ২০১৩ সালে এই হাট ইজারা হয় নয় লাখ ৬০ হাজার টাকায়।

কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধ সংলগ্ন জায়গায় নতুন পশুর হাটের জন্য বিক্রি হওয়া ৭টি সিডিউলের মধ্যে জমা পড়েছে ৩টি। হাজী মো. আবুল হোসেন সরকার সর্বোচ্চ দর প্রস্তাব করেছেন এক লাখ ১০ হাজার টাকা। এছাড়া মো. হোসেন ৭০ হাজার টাকা দর প্রস্তাব করেছেন। অপরজন হাজী মো. সোলাইমান কোনো দর উল্লেখ করেননি।

ডিএসসিসির নতুন আরেকটি হাট লালবাগের হাজী দেলোয়ার হোসেন খেলার মাঠের জন্য ৩ জন দরপত্র জমা দেন। এই হাটের জন্য সর্বোচ্চ দর প্রস্তাব করেছেন শেখ মো. আলমগীর এক কোটি এক লাখ এক হাজার ১০০ টাকা। এছাড়া সাকির আহমেদ ৮২ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং ইলিয়াস রশীদ ৬৫ লাখ টাকা দর প্রস্তাব করেছেন।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা খালিদ জানান, কোনো হাটের দর গত ৩ বছরের গড়ের সমান না হলে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বাধীন ৬ সদস্যের মূল্যায়ন কমিটি বিষয়টি চূড়ান্ত করবে।

এমআই/