‘নূর হোসেন আমার হলে তাকে বড় পদ কেন দেন আইভী’

0
179
shamim-osman
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির জিজ্ঞাসা বাদের পর সচিবালয়ে সাংবাদিকের সাথে কথা বলেন নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের এমপি শামীম ওসামন।

নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় ওই এলাকার সরকারি দলের সাংসদ শামীম ওসমান অভিযোগ করে বলেছেন, সেলিনা হায়াত আইভী ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে না কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির জিজ্ঞাসাবাদেরপরসচিবালয়ে সাংবাদিকের কাছে এ কথা বলেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি নূর হোসেন নিজের লোক নয় বলে এসময় দাবি করেন শামীম ওসমান। তিনি বলেন, ‘নূর হোসেন ঘটনার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। নূর হোসেন আমার লোক হলে আইভী তাকে বড় বড় পদ দেন কেন?’

নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত মন্তব্য করে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমার হাতে ক্ষমতা থাকলে কালকেই নূর হোসেনকে নিয়ে আসতাম।’

আওয়ামী লীগের সাংসদ শামীম ওসমান আরও বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছিলাম তা-ই সত্যি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ঘটনার এক ঘণ্টার মধ্যেই মন্তব্য করেছিলাম যে, সর্ষের মধ্যেই ভূত আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দু-একজন কর্মকর্তা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। আমরা কথা সত্য প্রমাণিত হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জে মানুষ এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন সেলিনা হায়াত্ আইভীর এমন মন্তব্যের জবাবে শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষ সারা দেশের মানুষের মতোই নিরাপদ। আর খুন তো ওয়াশিংটন ডিসিতেও হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। এর তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়।

ময়না তদন্তে জানানো হয়েছিল, অপহরণের পরপরই ওই সাতজনকে খুন করা হয়।

অপহরণের পর নজরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়। মামলার পর অভিযোগ অস্বীকার করে

সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য দেন নূর হোসেন। কিন্তু তাদের মরদেহ উদ্ধারের পর পালিয়ে যায় নূর হোসেন।

এরপর র্যা বকে ৬ কোটি টাকা দিয়ে ওই সাতজনকে খুন করিয়েছে বলে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম.এম. রানাকে বাধ্যমূলক অবসর দেওয়া হয়। এরপর ওই মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গত ১৪ জুন রাতে কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে বাগুইহাটি থানার কৈখালি এলাকার ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসন থেকে দুই সঙ্গীসহ নূর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াডের (এটিএস) সদস্যরা।