লুৎফর বাদলের টিমে তামিম

0
44
Tamim
লুৎফর রহমান বাদলের অফিস কক্ষে তাঁর পাশে বসে গাজী ট্যাংকে সই করছেন তামিম ইকবাল।

দলবদলের আনুষ্ঠানিকতা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের পাশাপাশি কারওয়ান বাজারের বিসিআইসি ভবনেও হয়েছে। গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্সের কর্ণধার লুৎফর রহমান লোকজনকেই ডেকে আনলেন নিজের অফিসে। এলেন তামিম ইকবালও। জাতীয় দলের এই ওপেনার লুৎফরের অফিস কক্ষে তার পাশে বসে গাজী ট্যাংকে সই করলেন।

Tamim
লুৎফর রহমান বাদলের অফিস কক্ষে তাঁর পাশে বসে গাজী ট্যাংকে সই করছেন তামিম ইকবাল।

কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমির দলবদল কার্যক্রমেরও আংশিক সম্পন্ন হলো একই জায়গায়। লুৎফর কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমি কিনে নিয়েছেন শোনা গেলেও ক্লাবটা আসলে কিনেছেন মনজুরুল করিম। লুৎফরের বেশ ঘনিষ্ঠ এই তরুণ আবার গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্সেরও ভাইস চেয়ারম্যান। কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমিকে তিনি পরিচিত করতে চান সুপার কিংস অব গাজীপুর নামে।

গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স মালিকানা বদলের দ্বিতীয় বছরে এসেও পাচ্ছে না নতুন মালিকের দেওয়া নাম! লুৎফরের দেওয়া লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ নামে পরিচিতি পাওয়ার কথা গাজী ট্যাংকের। অথচ বিসিবি এখনো সবকিছুতে দলটাকে গাজী ট্যাংকই বলে যাচ্ছে!

লুৎফর ক্ষোভ জানালেন, ‘বাইলজে লেখা আছে, কেউ নাম বদল করতে চাইলে প্রথম বছর আগের নামে খেলতে হবে, পরের বছর অটোমেটিক নতুন নাম চালু হয়ে যাবে। আমি বারবার চিঠিও দিয়েছি এ জন্য। কিন্তু যেহেতু লুৎফর রহমান বাদলের টিম, তাই অটোমেটিক কিছু হয় না। এটা হাস্যকর।’

এর আগে ওল্ড ডিওএইচএস নাম পরিবর্তন করে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব নাম নিয়েছিল।

বিসিবির বিরুদ্ধে লুৎফরের ক্ষোভ আছে আরও। খেলোয়াড় কিনতে টাকা তাঁর কাছে কোনো সমস্যা না হলেও প্রতিবারই সামনে অদৃশ্য বাধার দেয়াল তৈরি হয়। গতবার ‘প্লেয়ার বাই চয়েস’ নামের কালো নিয়মের শিকলবন্দী হয়ে পারেননি মনের মতো দল গড়তে। এবারও তাঁর একই আক্ষেপ, ‘আমি মনমতো দল করতে পারিনি। কথাবার্তা চূড়ান্ত করেছিলাম, এমন কয়েক জন খেলোয়াড় এবার পুলে পড়ে গেছে। জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলা খেলোয়াড়দেরও এবার পুলে রাখা হয়েছে; এটা আগে ছিল না।’

মনের মতো দল গড়তে না পারলেও গতবার অবশ্য লিগ শিরোপা জিতেছিল লুৎফরের গাজী ট্যাংকই।

কিন্তু ক্রিকেট বোর্ড কেন লুৎফরের সঙ্গে এমনটা করবে  সেই ব্যাখ্যাও দিলেন লুৎফর, ‘সেই বিপিএলের সময় থেকে আমি ক্রিকেটের পক্ষে কথা বলছি। যত অনিয়ম হয়, আমিই একমাত্র এর বিরুদ্ধে সোচ্চার। অন্য ক্রিকেট সংগঠকদের মধ্যে এটা কম দেখি। গতবার প্লেয়ার বাই চয়েস করা হয়েছিল আমাকে ঠেকাতেই। তার পরও আমি আমার কথা বলে যাব।’

গতবারের ব্যতিক্রম বাদ দিলে আগের কয়েক বছর তামিম আর সাকিব জুটি বেঁধেই খেলেছেন লুৎফরের দলে। ৬ মাসের জন্য বহিষ্কৃত সাকিবের জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার দ্বার খুলে গেলে লুৎফরের দলে খেলবেন এবারও।
লুৎফর জানালেন, ‘সাকিবও আমার দলে খেলবে, এটা আমি ধরে রেখেছি। এটা আমার একটা প্রতিবাদ। যদি তাকে খেলতে দেওয়া না হয়, আমি পুলের একটা খেলোয়াড় কম নিয়েই খেলব।’

তামিম-সাকিবের জন্য লুৎফরের বাজেট ১কোটির ওপরে বলে গুঞ্জন বাতাসে। লুৎফর অঙ্কটা নির্দিষ্ট করে না বললেও জানিয়েছেন, শেখ জামাল থেকে প্রাইম দোলেশ্বরে যাওয়া জাতীয় দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের চেয়ে বেশিই পাবেন সাকিব-তামিম।
ইউএম/