সুন্দরগঞ্জে নদী ভাঙ্গনে হুমকির মুখে কয়েক হাজার পরিবার

0
68
GAIBANDHA
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নদী ভাঙ্গনে হুমকির মুখে কয়েক হাজার পরিবার। ছবি- এস.এম. জাহিদুল ইসলাম
 GAIBANDHA
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নদী ভাঙ্গনে হুমকির মুখে কয়েক হাজার পরিবার। ছবি- এস.এম. জাহিদুল ইসলাম

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে সহস্রাধিক পরিবার বাস্তুহারা হয়ে পড়েছে। খর স্রোতা এ নদীর পানি বাড়া- কমার সাথে সাথে ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধসহ হাজারও পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও শতাধিক পান বরজ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ভাঙ্গন কবলিত এলাকাগুলো হচ্ছে- ছয়ঘড়িয়া, কালির খামার, উজান বোচাগাড়ী, কাশিমবাজার, কানি চরিতাবাড়ী, কাপাসিয়া, ভাটি কাপাসিয়া, উজান বুড়াইল, ভাটী বুড়াইল, পোড়ার চর, পূর্ব লালচামার।

ইতোমধ্যে নদী ভাঙ্গনে বসত ভিটাসহ ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় এলাকাগুলোর সহস্রাধিক পরিবার বাস্তহারা হয়েছেন। আকবর আলীর ১২ শতাংশ, জিন্নার ১৫ শতাংশ, দেলোওয়ার হোসেনর ১০ শতাংশ ও মুসার ১৫ শতাংশসহ শতাধিক পানের বরজ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসব ব্যক্তিদের পরিবারের উপাজনের একমাত্র সহায় সম্বল ছিল পানের বরজগুলি। কিন্তু নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় তারা এখন অর্ধাহারে- অনাহারে দিনাতিপাত করছেন।

এছাড়া হুমকির মুখে রয়েছে চাঁন মিয়া, আব্দুল কাইয়ুম, সিরাজুল ইসলাম, সানজু, আফিজল, বাদশা মিয়া, নুরআলম, আমিন, নুরুন্নবী,হারুন, কাসিরান বেওয়া, রফিকুল, মজিবর, ফিরোজ, আনিসুর মাষ্টার, হাফিজুর, জেলেখা বেওয়া, রাজু ও আব্দুল লতিফসহ ৫’শ শতাধিক পরিবার।

উজান তেওড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্ততঃ ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে।

কাপাসিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া জানান, গত ২ সপ্তাহের মধ্যে তার ইউনিয়নে প্রায় ৫০০ পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে ভাটিকাপাসিয়া ২৫০, উজান বুড়াইল গ্রামে ১০০, পোড়ার চর গ্রামে ৭০, পূর্ব লালচামার গ্রামে ৬০ পরিবার নদী ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারিয়েছে।

ভাঙ্গন ঠেকানোর জন্য সরকারিভাবে এ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে জানান তিনি।

তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল হক ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয় কঞ্চিবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আ.খ.ম হাফিজার রহমান জানান, নদী ভাঙ্গন ঠেকাতে ২১ লাখ টাকা ব্যায়ে বাঁশের স্পার ও বালির বস্তা ফেলানোর কথা থাকলেও নাম মাত্র বাঁশের স্পার নির্মাণ করে বালুর বস্তার স্থলে সামান্য মাটির বস্তা ফেলানো হয়। যা ভাঙ্গন ঠেকাতে কোনো কাজেই আসেনি।

এর আগে ছয়ঘড়িয়ায় নদী ভাঙ্গন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে বাঁশের স্পার ও বালুর বস্তা ফেলানোর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ১৩টি স্থানে বাঁশের স্পার স্থাপন করে নামমাত্র বালুর বস্তা ফেলানো হলেও ইতোমধ্যে ৭টি স্পার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হলেও নদীর ভাঙ্গন ঠেকাতে তা কোনো কাজেই আসেনি।

পাউবো’র প্রকল্প এলাকার এসও খায়রুল ইসলাম জানান, সিডিউল মোতাবেক কাজ করা হয়েছে। নদী গর্ভে বিলিন হলে আমাদের কিছুই করার নাই।

এএসএ/