৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে স্কুল সভাপতির

0
54
child_marriages
বাল্যবিবাহ- ফাইল ছবি
child_marriages
বাল্যবিবাহ- ফাইল ছবি

উত্তরবঙ্গের লালমনিরহাট জেলায় ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে জোর করে বিয়ে করার অভিযোগে ঐ স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে।

সদর থানায় সভাপতি আব্দুর রহিমসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ। অভিযুক্ত মি. রহিমকে স্কুল কমিটি থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি নাবালিকা শিশুকে তারই স্কুলের সভাপতির জোর করে বিয়ের ঘটনা ফাঁস হলে শহরে তোলপাড় শুরু হয়। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রশাসন।

তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মোগলহাটা গ্রামের খারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী রাশিদা খাতুনকে স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম জুন মাসের শেষের দিকে শহরে নিয়ে জোর করে বিয়ে করেন। সেখানে তার বয়স এফিডেবিট করে ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু স্কুলে ভর্তির কাগজপত্রের সময় দেওয়া জন্ম নিবন্ধন সনদে রাশিদার জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২০০০ সালের ২৩শে ডিসেম্বর। সে হিসেবে তার বয়স ১৩ বছরের কিছু বেশি।

লালমনিরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নবেজ উদ্দিন সরকার জানান, মাসখানের আগেই তিনি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ এবং পুলিশকে লিখেছিলেন। তবে মামলাটি গতকাল সোমবার হয়েছে।

ঘটনার এতদিন পরে আইনি উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার টিএম মুজাহিদুল ইসলাম জানান, বিয়ে একবার হয়ে গেলে অভিযোগ না আসা পর্যন্ত আইনগত ভাবে তারা কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেন না।

জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, যৌতুকপ্রবণ এলাকা হওয়াতে উত্তরাঞ্চলে এ ধরণের বাল্যবিবাহ প্রায়ই ঘটতে দেখা যাচ্ছে। ভোটের কথা চিন্তা করে ইউনিয়ন পরিষদগুলো অনেক সময় ঘটনা জানলেও চেপে যায়।

বাংলাদেশে ১৮ বছরের নিচে কোনো নারীর বিয়েই আইনসিদ্ধ নয়। তারপরও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। ইউনিসেফের তথ্যমতে, বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ৩ নম্বরে।

বাংলাদেশে বাল্য বিবাহ বিরোধী আইনে অপরাধ প্রমাণিত হলে, এক হাজার টাকা জরিমানা এবং এক মাসের কারাবাসের বিধান রয়েছে।

তবে মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক ইসলাম জানান, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন কঠোরতর করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এক মাসের জায়গায় ৩ মাসের কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকার বদলে জরিমানার পরিমাণ ৫০হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংশোধিত আইনের খসড়াটি আগামী মাসে মন্ত্রীসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলেও জানান সচিব।

এএসএ/