মোবাইল অপারেটরদের হাতে ব্যাংকিং নয়

0
202
mobi-cash
মোবিক্যাশ
mobi-cash
মোবিক্যাশ

মোবাইল অপারেটররা সরাসরি ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। তবে তাদের সঙ্গে চুক্তি করে ব্যাংকগুলো মোবাইল ব্যাংকিং করতে পারবে।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে গ্রামীণফোনের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের সময় এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সম্প্রতি গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে ‘মোবিক্যাশ’র মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং পরিচালনার অভিযোগ ওঠে। আর এ জন্য গত ৬ আগস্ট গ্রামীণফোনকে এর বিজ্ঞাপন বন্ধের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ সোমবার গ্রামীণফোনের প্রতিনিধি দলের সমস্যরা বাংলাদেশ ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে দেখা করতে আসে। সেখানে এ কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণফোনের মোবিক্যাশের অনুমোদন দেওয়া হয় মূলত ক্রিকেট ম্যাচ ও ট্রেনের টিকিট ক্রয়সংক্রান্ত সেবাদানের জন্য। এর বাইরে বিভিন্ন ইউটিলিটি (পরিষেবা) বিল পরিশোধের সেবা দিতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। আর কোনো সেবার অনুমতি নেই মোবিক্যাশের। তার পরও এর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মোবাইলয় ব্যাংকিং চালু রাখে গ্রামীণফোন।

মোবিক্যাশের মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জন্য গ্রামীণফোনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ আছে বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ইউসিবিএল, মার্কেন্টাইল ও ইসলামী ব্যাংক।
একটিমাত্র  চুক্তির আওতায়ই মোবিক্যাশের প্রায় ৫৫ হাজার এজেন্টের মাধ্যমে সেবাটি দিচ্ছে গ্রামীণফোন। আর এটা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস নীতিমালার লঙ্ঘন। কারণ নীতিমালায় সুস্পষ্ট বলা আছে, এ সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রত্যেক এজেন্টের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মোবিক্যাশের মাধ্যমে গ্রামীণফোনকে তিন ধরনের সেবার অনুমোদন দেয়। এগুলো হলো— ক্রিকেট ম্যাচ ও ট্রেনের টিকিট ক্রয় এবং পরিষেবা বিল পরিশোধ। আর মোবাইল ব্যাংকিং বিষয়ে এ-সংক্রান্ত নীতিমালায় বলা হয়েছে, এ সেবা অবশ্যই ব্যাংকের মাধ্যমে দিতে হবে। সেলফোন অপারেটররা শুধু প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র ম. মাহফুজুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, বিশ্বের কিছু কিছু দেশে টাকা জমা ও লেনদেনের জন্য ব্যাংকিং মডেল ও নন ব্যাংকিং মডেল চালু আছে। আর আমাদের দেশে শুধু চালু আছে ব্যাংকিং মডেল। এ কারণে আমরা ব্যাংকের বাইরে অন্য কাউকে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেবো না। কারণ এতে ব্যাংকিং সিস্টেটাই সমস্যায় পড়তে পারে। সেকারণে গ্রামীণফোনের মোবিক্যাশের বিজ্ঞাপন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মোবিক্যাশকে শুধু ক্রিকেট ম্যাচ ও ট্রেনের টিকিট ক্রয় ও পরিষেবা বিল পরিশোধের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। যা ব্যাংকিং নীতির সম্পূর্ণ বিরোধী।