গডফাদাররাই ৭ খুনে জড়িত: আইভি

0
76
IV_Selina
সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে সাত খুনের ঘটনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদ ব্রিফিং করছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে কারা ‘গডফাদার’ তা দেশের সবাই জানে। তারাই সাত খুনের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে সাত খুনের ঘটনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আইভী।

সচিবালয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান শাহজাহান আলী মোল্লার কক্ষে বেলা পৌনে ১১টা থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত এ বক্তব্য নেওয়া হয়।

নূর হোসেনকে দেশের ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে সেলিনা হায়াৎ আইভি বলেন, নূর হোসেনকে দেশে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার। কেন এ ঘটনা ঘটল, কারা এর পেছনে জড়িত।

নারায়ণগঞ্জের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে আইভী বলেন, এখনো নারায়ণগঞ্জের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
নিজে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যখন একটা শহরের জনগণ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, সেখানে আমার কথা আলাদা করে বলার কিছু নেই। তবে আমি ভয়ে ভীত নই। মানুষ মরে একবার। মৃত্যুকে আমি ভয় পাই না। যখন মৃত্যু আসবে, তখন মরে যাব।’

হত্যাকাণ্ডে আইভীর ঘনিষ্ঠরা জড়িত—নারায়ণগঞ্জের সরকারি দলের সাংসদ শামীম ওসমানের এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আইভী বলেন, ‘আমার ঘনিষ্ঠ কেউ এমনকি আমি জড়িত থাকলেও ধরা হোক। এমনকি আমার সন্তান হলেও ধরেন। বাঁচাতে আসব না।’

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় একই স্থানে নারায়ণগঞ্জের সাংসদ শামীম ওসমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে তদন্ত কমিটি।

ঘটনা তদন্তে কমিটি এ পর্যন্ত ৩৫০ জন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। এর তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়।

ময়না তদন্তে জানানো হয়েছিল, অপহরণের পরপরই ওই সাতজনকে খুন করা হয়।

অপহরণের পর নজরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়। মামলার পর অভিযোগ অস্বীকার করে

সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য দেন নূর হোসেন। কিন্তু তাদের মরদেহ উদ্ধারের পর পালিয়ে যায় নূর হোসেন।

এরপর র্যা বকে ৬ কোটি টাকা দিয়ে ওই সাতজনকে খুন করিয়েছে বলে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে র্যারব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম.এম. রানাকে বাধ্যমূলক অবসর দেওয়া হয়। এরপর ওই মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গত ১৪ জুন রাতে কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে বাগুইহাটি থানার কৈখালি এলাকার ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসন থেকে দুই সঙ্গীসহ নূর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াডের (এটিএস) সদস্যরা।