২০ কোটি টাকার সরকারি বাড়ি আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে দুদক

0
78
Dudak

চট্টগ্রাম সিএমএম কোর্ট হাকিমের বাস ভবনের জন্য নির্ধারিত সরকারি বাড়িটি দখলের অভিযোগ উঠেছে সাবেক সিভিল অ্যাফেয়ার্স অফিসার (উপ-সচিব) নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সিআইডির তদন্তে বাড়িটি অবৈধ দখল ও আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

Dudak
দুদকের লোগো

রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের নিয়মিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দুদক সূত্র।

সূত্র জানায়, আবু মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম চট্টগ্রাম সেনানিবাসে সিভিল অ্যাফেয়ার্স অফিসার (উপ-সচিব) পদে থাকাকালে বাড়ি বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছিলেন। ২০০২ সালে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার মুরাদপুর মৌজার নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ৩ নম্বর সড়কের ৫৪ বি-২ নম্বর বাড়িটি তার নামে অস্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেয় জেলা আবাসন বোর্ড।

নুরুল ইসলাম একই বছরের ১ নভেম্বর বাড়িটিতে বসবাস শুরু করেন। ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারি তিনি অবসরে যাওয়ায় ওই বছরের ৯ আগস্ট বাড়ি ছাড়ার আদেশ দেয় আবাসন বোর্ড। কিন্তু এখনও বাড়িটি দখলে রেখেছেন সাবেক ওই সরকারি কর্মকর্তা।

এতো দীর্ঘ সময় বাড়িটি দখলে রাখলেও তিনি এর জন্য কোনো ভাড়া প্রদান করেননি। বরং তা দখলের জন্য সরকারি অধিগ্রহণের আগের মালিকের ওয়ারিশদের দিয়ে মালিকানা দাবি করে মামলা (নম্বর ৩১০/০৪) দায়ের করান ওই কর্মকর্তা।

ইতোমধ্যে পূর্ব মালিকদের ওয়ারিশদের সঙ্গে ২০ লাখ টাকায় বায়না দলিলও রেজিস্ট্রি করে নেন নুরুল ইসলাম। অথচ সিআইডির প্রতিবেদনে ১৮ শতক জমির ওপর একতলা বাড়িটির মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ২০ কোটি টাকা।

সূত্র আরও জানায়, বায়না দলিল রেজিস্ট্রি করার পর বাড়িটি নিজের দখলে নিতে আদালতে রিট পিটিশন করেন তিনি। পরে আদালতের নির্দেশে বাড়িটি নিয়ে তদন্ত করে পুলিশের তদন্ত বিভাগ সিআইডি। তদন্ত শেষে তারা বাড়িটি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা ও আত্মসাতের প্রমাণ পায়।

এরপর বিষয়টি দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ হওয়ায় গত ২৬ জুন কমিশনে দাখিল করে সিআইডি। আর সিআইডির দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

সিআইডির তদন্তে বাড়িটি সম্পর্কে জানা যায়, পাকিস্তান আমলে গভর্নরের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অধিগ্রহণ করে বাড়িটি নাসিরাবাদ কো-অপারেটিভ সোসাইটির অনুকূলে হস্তান্তর করেন। স্বাধীনতার পর এটি খাস সম্পত্তিতে পরিণত হলে বাংলাদেশ সরকার পিও নম্বর ১৬/১৯৭২ মূলে তা পরিত্যক্ত সম্পত্তি ঘোষণা করে এবং বাড়িটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় আসে।

আরএস জরিপমূলে সম্পত্তিটির মালিক ছিলেন আনু মিয়া নামের এক ব্যক্তি। কর্মকর্তা আবু মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আনু মিয়ার ওয়ারিশ মোহাম্মদ আলী, পাকিজা খাতুন ও আনোয়ারা বেগমকে দিয়ে বিএস খতিয়ান শুদ্ধির জন্য মামলা দায়ের করান। ওই কর্মকর্তা সব মামলা চালানোসহ সম্পত্তির মূল্য ১৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করে মোহাম্মদ আলী গংয়ের সঙ্গে বায়না দলিল করেন (নম্বর ৪৩৭৬)।

পরবর্তীতে চট্টগ্রাম আবাসন বোর্ড বাড়িটি উচ্ছেদের মাধ্যমে খালি করার উদ্যোগ নিলে নুরুল ইসলাম তা ঠেকাতে হাইকোর্টে রিট (মামলা ৪৩৯৩/১৩) করেন।

এমই/