ছোট উদ্যোক্তাদের দিকে বেশি নজর দিন: গভর্নর

0
147
Atiur_rahman
বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে ‘এসএমই খাতে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল-এর আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষর’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছোট ছোট উদ্যোক্তাদের দিকে বেশি করে নজর দিতে আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে ‘এসএমই খাতে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল-এর আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষর’ অনুষ্ঠানের তিনি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের প্রতি এ আহ্বান জানান।

কারণ হিসেবে গভর্নর বলেন, এরাই আমাদের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছে। যার ফলে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও আমাদের দেশের অর্থনীতি গতিশীল ছিলো বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. মাছুম পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. আবুল কাশেম, নির্বাহী পরিচালক নির্মল চন্দ্র ভক্ত, ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সভাপতি আলী রেজা ইফতেখার, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এর সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খান ও সাবেক সভাপতি মো. সবুর খান প্রমুখ।

গভর্নর বলেন, আমাদের দেশে স্বল্প জায়গায় অধিক জনসংখ্যা হওয়ায় আমরা জাতিগতভাবেই প্রতিকুলতার মধ্যে বেঁচে থাকতে শিখেছি। এ কারণে আমাদের জিনের মধ্যেই এক ধরনের উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়ে আছে। সুতরাং আমাদের বেকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে হবে। দেশের অর্থনীতিতে তাদেরকে কাজে লাগাতে হবে।

গভর্নর আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশে শতকরা ৬০ ভাগ মানুষই কর্মক্ষম। প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ নতুন কর্মক্ষম জনবল তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে মাত্র ১০ লাখ জনবল দেশে-বিদেশের শ্রমবাজারে চাকরি লাভ করছে।

তিনি বলেন, কর্মক্ষম মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই ক্রমবর্ধমান জনবলের বাড়তি কর্মসংস্থান সৃষ্টির এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্টদের কার্যকর নীতি-কৌশল-কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

তাছাড়া বাড়তি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশে সরকারি-বেসরকারি খাতে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিরও আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উৎস হিসেবে বিকল্প কর্মসংস্থান তথা আত্মকর্মস্থান সৃষ্টি করতে হবে বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এ গভর্নর।

সবুর খান বলেন, বাংলাদশে এখনও কোনো প্রতিষ্ঠান উদ্যোক্তা তৈরির জন্য কাজ করেনি। এ জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ২ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির। এরই অংশ হিসেবে আমরা ইতোমধ্যে এক হাজার ৬৮ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৪৫টি ক্যাম্পেইন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে যেসব উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে তারা অনেক অভিজ্ঞতা নিয়েই মাঠে নামবে, শুধু তাদের মাঝে মাঝে একটু সঠিক গাইডলাইন দিতে হবে। আর এ কাজটা ডিসিসিআই করবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের এ পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা। অনুষ্ঠানে ৩২টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ তহবিল থেকে টাকা নেওয়ার চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ তহবিল থেকে উদ্যোক্তাদের জন্য মাত্র ১০ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে পারবেন। আর ব্যাংকগুলো পাবে ৫ শতাংশ সুদে। তাছাড়া ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানত বিহীন এবং ২৫ লাখ টাকা জামানতসহ ঋণ নিতে পারবেন উদ্যোক্তারা।

এসএই/