৭ দিনেও খোঁজ মেলেনি পিনাকের

0
66
pinack-6
ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে পিনাক-৬
pinack-6
ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে পিনাক-৬

সাত দিনেও খোঁজ মেলেনি পদ্মায় ডুবে যাওয়া লঞ্চ পিনাক-৬ এর। রোববার সকাল থেকে সপ্তম দিনের অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছে উদ্ধারকর্মীরা।

গতকাল শনিবার পদ্মার তলদেশে যে ধাতব বস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম হয় উদ্ধারকর্মীরা। চট্টগ্রাম বন্দরের অনুসন্ধানকারী নৌযান কাণ্ডারি-২ এর যন্ত্রে এ ধাতব বস্তুর অবস্থান ধরা পড়ে। তবে এ ধাতব বস্তু পিনাকেরই কিনা সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি তারা।

উদ্ধার কর্মীরা জানিয়েছেন,  ধাতব বস্তুটির দৈর্ঘ্য ৪৯ থেকে ৫২ ফুট। ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ এর দৈর্ঘ্য ৫১ ফুট। পিনাক কাত হয়ে ডুবেছিল আর সংকেত পাওয়া বস্তুটিও কাত হয়ে আছে। ধাতব বস্তুটি ঘটনাস্থল থেকে ৪শ’ থেকে ৫শ’ মিটার দূরে রয়েছে বলে জানায় তারা।

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান হাইড্রোগ্রাফার ক্যাপ্টেন মঞ্জুরুল করিম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, পিনাক-৬ ডুবে যাওয়ার কাছাকাছি ১ কিলোমিটার ভাটিতে ধাতব কিছুর খোঁজ পাওয়া গেছে। এটি স্রোতের সঙ্গে সরে যাচ্ছে।

ক্যাপ্টেন মঞ্জুরুল করিম চৌধুরী জানান, ‘নৌবাহিনী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ১০টি জাহাজ উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগির হয়তো ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার হবে।’

লঞ্চডুবির পর থেকেই নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী দল- কোস্টগার্ড, ফায়ার ব্রিগেড, অনুসন্ধানী জাহাজ কান্ডারী-২ এবং সাইটস্ক্যান ‘সোনার’ ব্যবহার করে তিস্তা, সন্ধানী, আইটি ৯৭ ও ব-দ্বীপ নামে বেশ কয়েকটি অনুসন্ধান জাহাজ শুক্রবার সকাল থেকে ‘পিনাক-৬’-এর অনুসন্ধান করছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান ড. শামসুদ্দোহা খন্দকার জানান, দুর্ঘটনাস্থলে প্রবল স্রোত এবং পানির গভীরতা প্রায় ৮০/৯০ ফুট। ঘূর্ণাবর্তের কারণে সেখানে গর্ত সৃষ্টি ও বালু জমা হচ্ছে। তাই লঞ্চটি দূরে সরে বালুর নিচে চাপা পরে থাকতে পারে। তাই শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

গত সোমবার কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়া আসার পথে তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় পিনাক।
লঞ্চডুবিতে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৬৪ জন। ৪৬টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ জনের পরিচয় মিলেছে। ১৫ জনকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে।