লিপস্টিক থেকে সাবধান!

0
480
lipstick-perfectly
লিপস্টিক সৌন্দর্য বাড়ায় ঠিকই,তবে কিছু ঝুঁকিও থাকে
lipstick-perfectly
লিপস্টিক সৌন্দর্য বাড়ায় ঠিকই,তবে কিছু ঝুঁকিও থাকে

মেয়েরা সাজবে কিন্তু লিপস্টিক মাখবে না তা কি হয়? তাদের জরুরি প্রসাধনীর মধ্যে এটি অন্যতম। এ কারণেই বেশিরভাগ মেয়ের ব্যাগেই যে কোনো সময় জিনিসটি পাওয়া যায়। ছোটবড় মার্কেটগুলোতে এর বেচা-কেনা রমরমা। দাম সর্বনিম্ন ৬০-৭০টাকা থেকে শুরু করে ১৮০০- ২০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

লিপস্টিক হচ্ছে এমন এক প্রসাধনী যা বিভিন্ন রকম রঞ্জক পদার্থ, তেল, মোম এবং ত্বক কোমলকারী পদার্থের সন্নিবেশে তৈরি হয়। মুখের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এটি ঠোঁটে দেওয়া হয়। কিন্তু এই শখের লিপস্টিকই হতে পারে আপনার মৃত্যুর কারণ। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্যই উঠে এসেছে।

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকেরা অকল্যান্ডের ১৪ থেকে ১৯ বছর বয়সী ১২ জন মেয়ের ব্যবহৃত লিপস্টিক ও লিপগ্লসের নাম ও ব্যান্ড নিয়ে গবেষণা করেন।

গবেষকেরা দেখেন, এসব লিপস্টিকে শিশা, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম ও অন্য আরও ৫টি ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে যা মানবদেহে ক্যান্সার সৃষ্টিতে সক্ষম।

তারা বলেন, লিপস্টিকে সিসা থাকে ১০ লাখ ভাগের মাত্র এক ভাগের সামান্য বেশি (এক পিপিএম)। কিন্তু বারবার ব্যবহারে ঠোঁট থেকে জিহ্বা হয়ে তা পেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর শরীরে সিসা ঢুকলে তা ভেতরেই থেকে যায়। এখানেই ভয়।

লিপস্টিকে সিসার উপস্থিতি ধরা পড়ে ২০০৭ সালে (নিউইয়র্ক টাইমস, ২০ আগস্ট ২০১৩)। সে সময় নিরাপদ প্রসাধনীর জন্য ‘বিষ চুম্বন’ আন্দোলন শুরু হয়।

lipstick
বিভিন্ন কালারের লিপস্টিক- ফাইল ছবি

গবেষকেরা জানান, প্রায় সব লিপস্টিকেই এই ধরনের উপাদান কম-বেশি রয়েছে। লিপস্টিক ঠোঁটে ব্যবহার করা হলেও মুখে চলে যাওয়ার ফলে ক্যান্সারের সম্ভবনা থাকে।

সম্প্রতি এই গবেষণাটি এনভায়রনমেন্টাল হেলথ পারসপেকটিভ নামক এক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, লিপস্টিকের প্রচলন শুরু করেছে প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার নারীরা। মিশরীয়রা সামুদ্রিক আগাছা থেকে আরোহিত পার্পল-লাল রংয়ের এক প্রকার পদার্থের সাথে ০.০১% আয়োডিন ও কিছু ব্রোমিন মিশিয়ে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ ব্যবহার করতেন, যা লিপস্টিক হিসেবে প্রয়োগ করা হতো। রানী ক্লিওপেট্রা ঠোঁটে লিপস্টিক ব্যবহার করতেন যা তৈরি হতো মেরুন রংয়ের বিটল পোকা থেকে। এর ফলে ঠোঁটে একটি গাঢ় লাল আভা ফুটে উঠতো।

বেশি মাত্রায় লিপস্টিক ব্যবহারের ফলে ঠোঁট তার আসল আদ্রতা হারিয়ে ফেলে। ফলে রুক্ষ একটা ভাব চলে আসে। তখন পরবর্তীতে লিপস্টিক ছাড়া চলাই মুশকিল হয়ে যায়। তাই নিজে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করুন।

এএসএ/