পানি কি প্রতিষেধক!

0
178
drinking water

পানি ছাড়া জীবন! সে তো অলীক কল্পনা। খাদ্য ছাড়া মানুষ কয়েক সপ্তাহ বাঁচতে পারে কিন্তু পানি ছাড়া কয়েক দিনও নয়। রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে শরীরে জৈব রাসায়নিক ক্রিয়ায় অপরিহার্য উপাদান পানি। এই জন্য নিয়মিত বিশুদ্ধ পানি সাথে রাখা ভালো।

বিভিন্ন রোগে পানি:water
জন্ডিস: জন্ডিসের মূল ওষুধ হলো পানি। সম্পূর্ণ বিশ্রামের পাশাপাশি যত বেশি পানি পান করা যায়, তত দ্রুত এই রোগ ভালো হয়ে যায়।
কিডনির রোগ: কিডনির রোগ প্রতিরোধে পানির ভূমিকা ব্যাপক। দেহের দূষিত পদার্থ বের করে দিয়ে কিডনি ভালো রাখতে যথাযথ উপাদান হলো পানি।
কোষ্ট-কাঠিন্য: কোষ্ট-কাঠিন্য প্রতিরোধে পানি পান অপরিহার্য। সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে নিয়মিত ৩-৪ গ্লাস পানি পান করলে কোষ্ট-কাঠিন্য থেকে দূরে থাকা যায়।
বাত রোগ: ইউরিক এসিড ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ শরীর থেকে বের করে দেয় পানি। ফলে বাত রোগ আক্রমণ করতে পারে না।
জ্বর: জ্বরের ক্ষেত্রেও পানির ভূমিকা অনস্বীকার্য। জ্বর হলে বেশি পরিমাণে পানি পান করা ভালো। এছাড়া খাবার স্যালাইন মেশানো পানি পান করলে সাধারণ ডেঙ্গু জ্বর শরীরে তেমন ক্ষতি করতে পারে না।
হজমে পানি: খাবার ৩০ মিনিট বা ১ ঘণ্টা আগে পানি পান করলে তা খবার হজমে সহায়ক হয়। এটি হজম ক্ষমতা বাড়ায়।
অন্যান্য: ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হাঁপানি, ত্বকের রুক্ষতা বা বলিরেখা, শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা ইত্যাদি সমস্যায় বিভিন্নভাবে পানি ফলদায়ক ভূমিকা পালন করে।
পানি পানের যথার্থ সময়: সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর খালি পেটে পানি পান করা উত্তম। খাওয়ার ১ ঘণ্টা আগে এবং ১ ঘণ্টা পর পানি পান করতে হয়। পিপাসা পেলে দ্রুত পানি করা ভালো। সকালে ৩-৪ গ্লাস পানি পানের পর কিছুক্ষণ হাঁটা বা জগিং শরীরের জন্য উপকারী। drinking water
পানি পানের নিয়ম: খালি পেটে পানি পান করা শুরু করলে প্রথম দিকে কিছু সমস্যা হতে পারে। তাই এই অভ্যাস তৈরি করার সময় প্রতি গ্লাস পানি পানের পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। এটি শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী। তবে প্রথম ১৫ দিনের মধ্যে এই অভ্যাসের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে না পারলে জোর করে পানি পান করা জরুরি নয়। খালি পেটে পানি পানের চেয়ে শরীরের সুস্থ্যতা বেশি জরুরি। তাড়াহুড়া না করে ধীরে ধীরে হালকা চুমুক দিয়ে পানি পান করতে হবে।
প্রচণ্ড রোদে পথ চলার পর কিংবা অধিক শারীরিক পরিশ্রমের পর ঘর্মাক্ত অবস্থায় পানি পান করা উচিত নয়। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর ঘাম শুকিয়ে গেলে পানি পান করুন। অতিরিক্ত পিপাসায় একসঙ্গে অধিক পানি পান করা উচিত নয়। উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগীদেরও একসঙ্গে বেশি পানি পান করা উচিত নয়। সব সময় অল্প অল্প করে বারবার পানি পান শরীরের জন্য উপকারী।