কমছে জনশক্তি রপ্তানি, ফেরত আসছেন অনেকে

0
60
menpower-export
জনশক্তি রপ্তানি
menpower-export
জনশক্তি রপ্তানি

গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে জনশক্তি রপ্তানি। পাশাপাশি বাড়ছে যুদ্ধবিধস্ত ইরাক, লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে শ্রমিকদের ফিরে আসার হার। আর এমনটি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শ্রম বাজারের দুঃসময় নেমে আসবে বলে আশংকা বিশেষজ্ঞদের।

বছরের প্রথম সাত মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জনশক্তি রপ্তানি কমেছে ১৮ শতাংশ। আর ২০১২ সালের প্রথম সাত মাসের তুলনায় ৩৪ শতাংশ। ধারাবাহিকভাবে জনশক্তি রপ্তানির হার কমে যাওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত হিসেবে দেখেছন দেশের অর্থনীতিবিদরা। সেই সাথে এটি ভবিষ্যতে শ্রম বাজার ধরে রাখা ও রেমিটেন্স প্রবাহে নেতিবাচক ভুমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।

জনশক্তি রপ্তানি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যমতে, ২০১৪ সালের প্রথম সাত মাস (জানুয়ারি-জুলাই) সরকারের অনুমোদন নিয়ে দুই লাখ ৩৯ হাজার ৮০৫ জন বিভিন্ন দেশে গিয়েছে। যা ২০১৩ সালের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ হাজার ৫৮১ জন কম। আর ২০১২ সালের একই সময়ের তুলনায় কম ১ লাখ ১২ হাজার ৭৪০জন।

সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের প্রথম সাত মাস বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে দুই লাখ ৮৩ হাজার ৩৮৬ জন। যা বছর শেষে ৪ লাখ ৯ হাজার ৫৫৩ তে দাঁড়িয়েছিল। ২০১২ সালে প্রথম সাত মাসে এ সংখ্যা ছিলো ৩ লাখ ৫২ হাজার ৫৪৮ জন। যা বছর শেষে ৬ লাখের বেশি ছাড়িয়েছিল। আর এবার প্রথম সাত মাসে মাত্র ২ লাখ ৩৯ হাজার জন বিদেশ গমন করায় বছর শেষে তা ৪ লাখে না পৌছার শঙ্কায় রয়েছে বিএমইটির কর্মকর্তারা। আর এমনটি হলে তা জনশক্তি রপ্তানি কমবে ২০১৩ সালের তুলনায় ১৮ শতাংশ ও ২০১২ সালের তুলনায় ৩৪ শতাংশ।

অন্যদিকে গত কয়েক ধরে বছর ইরাক, লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে গৃহযুদ্ধ বিরাজ করায় জীবনের শঙ্কায় ফেরত আসছেন অনেক বাংলাদেশি। এদের মধ্যে অধিকাংশই চলে এসেছেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে । যাদের তালিকা সরকারের কাছে নেই। আর গত দুই বছরে সরকারি সহায়তায় শুধু লেবানন থেকে ফেরৎ এসেছেন ৪৫ হাজার বাংলাদেশি। ইরাক থেকে ফেরত এসেছে কয়েক হাজার। এছাড়া একই সময়ে গৃহযুদ্ধের কারণে মিশর, সুদানসহ অন্যান্য দেশ থেকে ফেরত এসেছেন অনেক বাংলাদেশি।

এদিকে দেশ থেকে জনশিক্ত রপ্তানি আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়া ও নানান কারণে শ্রমিকদের ফেরত আসা দেশের অর্থনীতির জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরের প্রথম দিকে রেমিটেন্স প্রবাহ বেশি থাকলেও শেষ দিকে এসে তা আশঙ্কাজনকহারে কমে যায়। জনশক্তি রপ্তানির হার বাড়াতে না পারলেও এ বছর শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে কমবে রেমিটেন্স প্রবাহের হার। ফলে এটা দেশের অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দেবে’।

জনশক্তি রপ্তানি কমে যাওয়ার বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেন বলেন, বাংলাদেশিদের জন্য প্রধান শ্রম বাজার মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমুহ। কিন্তু ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের পরিস্থিতি ভালো না থাকায় জনশক্তি রপ্তানি কিছুটা কমেছে।

তবে বছর শেষে এ অবস্থা থাকবে না বলে মনে করেন তিনি।