আদিবাসী শব্দ বাদের প্রজ্ঞাপন মানি না: সুলতানা কামাল

0
123
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবন উপলক্ষে ‘ভূমি থেকে আদিবাসী উচ্ছেদ বন্ধ ও তাদের মানবাধিকার সুরক্ষা: রাষ্ট্রের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায়
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবন উপলক্ষে ‘ভূমি থেকে আদিবাসী উচ্ছেদ বন্ধ ও তাদের মানবাধিকার সুরক্ষা: রাষ্ট্রের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায়
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে গোলটেবিল আলোচনা সভা। ছবি- মহুবার রহমান

আদিবাসী শব্দটি সংবিধান থেকে বাদ দেওয়ার প্রজ্ঞাপনের বিরোধীতা করে আইন ও শালিস কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলেছেন, এই আইন মানি না, মানবো না। আর এই কথাটি বলার জন্য শাস্তি পেতে হলে যে কোনো ধরনের শাস্তির জন্য আমরা প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে ‘ভূমি থেকে আদিবাসী উচ্ছেদ বন্ধ ও তাদের মানবাধিকার সুরক্ষা: রাষ্ট্রের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।

সুলতানা কামাল বলেন, এই প্রজ্ঞাপনটি সম্পূর্ণ অবাস্তব, অদ্ভুদ। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আদিবাসীসহ সকল মানুষের অধিকার রক্ষা করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু সরকার তার উল্টোটা করছে।

তিনি বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীনরা তাদের নির্বাচনী ইশতিহার-২০১৪ এর ২২.১ ও ২২.২ ধারায় উল্লেখ করেছিল যে, আদিবাসীদের ভূমি রক্ষা, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নসহ তাদের মান-মর্যাদা রক্ষা করবে। তাদের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য করা হবে না। কিন্তু সরকার ‘আদিবাসী’ শব্দটির ব্যবহার পরিহারের জন্য নির্দেশনা জারি করেছে।

সংখ্যাগরিষ্টের কথা বলে গণতন্ত্রের চর্চা হয় না এটা এক ধরনের স্বৈরতন্ত্রের চর্চা এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশে এখন যে নীতি চলছে এই নীতিচর্চাকারীরা হয়তো ভবিষ্যতে বলবে দেশে নারী বলতে কিছু নেই।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার ৪২ বছরেও আদিবাসীদের অধিকার বাস্তবায়ন হয়নি।

তিনি বলেন, আদিবাসী শব্দের বিলুপ্তির পর হয়তো একদিন বলা হবে সংবিধান থেকে মানুষ শব্দও বাদ দেওয়া হবে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংবিধান থেকে আদিবাসী শব্দ বাদ দিয়ে সরকার অনধিকার চর্চা করছে। কিছু স্বার্থবাদী লোক আদিবাসী ও বাঙালিদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন অপকৌশল চালিয়ে যাচ্ছে। এটা ভবিষ্যতে মারাত্বক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ বিষয়ে এখনই রাষ্ট্রকে নজর দেওয়া জরুরি বলে মত দেন তিনি।

অর্থনীতিবিদ ড. স্বপন আদনান বলেন, যারা আদিবাসীদের অধিকার নিয়ে এতদিন কথা বলছে তারাই এখন তাদের নিয়ে ডিগবাজী খেলছে। এটা খুবই চিন্তার বিষয়। এর পেছনে বড় কোনো কারণ থাকতে পারে।

আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য‌ ড. ডালেম চন্দ্র বর্মন বলেন, আদিবাসদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। তাদের জমিতে ইকো পার্ক, ট্যুরিস্ট প্লেসসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে ধীরে ধীরে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের জমিজমার প্রয়োজন নেই তবুও যেন আমরা সেখানে বসবাস করতে পারি। এটা সরকারের কাছে প্রত্যাশা।

ডালেম বলেন, এই অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা, আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা ও ভূমি মন্ত্রনালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্য শামছুল আলম দুদু উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু তারা আসেননি। এতে আদিবাসীদের আরও উদ্বেগ বেড়ে গেল।

আসকের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক আইনুন নাহার, ড. আমতিয়াজ আহমেদসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের নেতারা।

জেইউ/