কমছে নিত্যপণ্যের দাম

0
141
Vegetables Bazar
সবজির বাজার: ফাইল ছবি

পবিত্র রমজানে রাজধানীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দফায় দফায় বাড়লেও এবার কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে কাঁচাবাজারে টমেটো, শসা, বেগুনসহ বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে।

তবে পেঁয়াজ ও মাছের দাম একটু চড়া। এছাড়া পোলাও চালের দাম কমলেও অন্য মুদি পণ্য গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে ঈদের আগে খাসির মাংস প্রতি কেজিতে ৫৫০ থেকে ৫৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৮০-৫০০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৭৫ টাকা, গরুর মাংস ৩০০ টাকা ও কবুতর জোড়া ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মালিবাগ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহ ব্যবধানে টমেটো কেজিতে ২০০ টাকা থেকে কমে ১২০ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ টাকা থেকে কমে ৩০-৪০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা থেকে কমে ৩০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা থেকে ৪০ টাকা, শসা ৪০-৫০ টাকা থেকে কমে ৩০-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া সিম ৯০ টাক, ঝিঙ্গা ৪০ টাকা, কচুর মুখি ৫০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, ধুন্দল ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, দেশি গাজর ৫০-৬০ টাকা, কচুর লতি ৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, প্রতি হালি লেবু ২০-৩০ টাকা ও কাঁচাকলা হালি ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা নাজমুল বলেন, কিছু নতুন সবজির বাজারে আসতে শুরু করেছে। পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমেছে। তাই এর প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।

দোকানিরা ফুল কপি ২৫-৩০ টাকা, বাঁধা কপি ২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩৫-৪০ টাকা, জালি কুমড়া ২৫-৩০ টাকা, লাউ ৩৫-৪৫ টাকা, সবুজ শাক আটি ৮ টাকা, লাউ শাক ২০ টাকা, লাল শাক ৫ টাকা, মুলা শাক ৫ টাকা, পুঁইশাক ১৫-২০ টাকা, ডাটা ১০-১৫ টাকা, কলমি শাক ৫ টাকা ও ধনে পাতা (১০০ গ্রাম) ৩০ টাকায় বিক্রি করছে।

ক্রেতা মমিনুল হক বলেন, রমজান মাসে দফায় দফায় সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতার নাভিশ্বাস উঠেছিল। এখন সবজির দাম অনেকটা কমায় ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পাঙ্গাস ১২০-২২০ টাকা, রুই ২৬০-৩৮০ টাকা, রুপচাদা- ১০০০-১১০০ টাকা, বাইলা ৫০০-৭০০ টাকা, বাইন ৬০০-৭০০ টাকা, চেওয়া ৪৫০-৫০০ টাকা, ফলি ৪০০-৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০-২৫০ টাকা, মাঝারি পোয়া মাছ ৫৫০-৬৬০, মৃগেল ২২০-২৮০ টাকা, বাটা ২৪০-২৬০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-৩০০ টাকা, দেশি পুঁটি ৪৫০ টাকা, ছোট চিংড়ি ৪৫০-৫৫০ টাকা, বড় চিংড়ি ৬০০-৯০০ টাকা, টেংরা ৫৫০-৭০০ টাকা, পাবদা ৬০০-৭৫০ টাকা, শিং মাছ ৫৫০-৮০০ টাকা, কাতল ২৬০-৪০০ টাকা, দেশি মাগুর ৬০০-৯০০ টাকা ও আকারভেদে ইলিশ প্রতিজোড়া ১২০০-২২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে। সপ্তাহ ব্যবধানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৩৮ টাকা থেকে বেড়ে ৪০-৪২ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৮-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া দেশি আদা ১৮০-২০০ টাকা, চায়না আদা ২৪০-২৫০ টাকা, রসুন একদানা ১৫০ টাকা, বড় রসুন ৮০-৯০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১০৫-১১০, ভারতীয় মসুর ডাল ৮০-৮৫ টাকা, অস্ট্রেলিয়ান মসুর ডাল ১১০-১১৫ টাকা, খেসারি ডাল ৪৫ টাকা, ছোলা ৬০ টাকা, মুগ ডাল ১১০-১১৫ টাকা, মটর ডাল ৮০ টাকা, অ্যাংকর ডাল ৪৬, বুট ডাল ৭০ টাকা, খোলা চিনি ৪৬-৪৭ টাকা, প্যাকেট চিনি ৫০ টাকা এবং আটা ৩২ টাকা দরে বিক্রি করছেন দোকানিরা।

প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১০৫-১১০ টাকা ও পামলিন ৯০ টাকা। এছাড়া ব্রয়লার মুরগির প্রতি হালি লাল ডিম ৩২ টাকা ও হাসের ডিম ৪০ টাকা।

খুচরা বাজারে পোলাও চালের দাম কমেছে। পোলাও চাল মানভেদে ৫ টাকা কমে ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছড়া প্রতি কেজি মোটা চাল ৩৮ টাকা, মিনিকেট ১ নং ৪৮-৫০ টাকা, মিনিকেট ২ নং ৪৩-৪৪ টাকা, বি.আর. ঊনত্রিশ ৩৮-৪০ টাকা, বি.আর.আটাশ ৪০-৪২ টাকা, পারিজা ৩৭-৩৮ টাকা ও নাজির ১ নং ৫০-৫২ টাকা।

এমআই/ এএসএ/