এফআরএতে আটকে আছে ১২০০ কোটি টাকার ঋণ

0
121
dollar
মার্কিন ডলার (ফাইল ছবি)
dollar
মার্কিন ডলার (ফাইল ছবি)

বহু আলোচিত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট (এফআরএ) না হওয়ায় আটকে আছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ ঋণ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) এ ঋণ দেওয়ার কথা।কিন্তু তাদের শর্ত অনুসারে এফআরএ না করায় ঋণের অর্থ ছাড় করছে না সংস্থাটি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইআরডি সূত্র জানিয়েছে, এডিবি বাজেট সহায়তা হিসেবে ৩০ কোটি ডলার (প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা) দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।এর জন্য সংস্থার পক্ষ থেকে ২৮টি শর্ত দেওয়া হয়।শর্তগুলোর প্রায় অর্ধেক পূরণ করেছে সরকার। এর প্রেক্ষিতে প্রথম কিস্তির ১৫ কোটি ডলার (প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা) ছাড় করে সংস্থাটি। পরবর্তীতে অন্যান্য শর্ত পূরণ হলেও এফআরএ প্রণয়নের শর্তটি অপূর্ণ রয়ে গেছে এখনও।শুধু একটি শর্ত পরিপালনে ব্যর্থতার কারণে গত অর্থবছরে (২০১৩-১৪) দ্বিতীয় কিস্তির অর্থছাড় করেনি এডিবি।

উল্লেখ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা প্রতিষ্ঠার জন্য ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট (এফআরএ) প্রণয়নের তাগিদ দিচ্ছে এডিবি। এফআরএ প্রণীত হলে তার আওতায় গঠন করা হবে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)।তখন এ কাউন্সিলে নিবন্ধিত হয়েই কেবল নিরীক্ষা কার্যক্রম চালাতে পারবে কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হিসাব কারসাজিতে সহায়তা ও নিরীক্ষায় অনিয়ম প্রমাণিত হলে জরিমানাসহ ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। কয়েক বছর ধরেই সরকার এফআরএ প্রণয়নের কথা বলে আসছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে সিএমডিপি-২ এর আওতায় এডিবির রিভিউ মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিএমডিপির দ্বিতীয় ধাপে দেওয়া ঋণের ১৫টি শর্তের মধ্যে ১০টি সম্পূর্ণরূপে পরিপালন হয়েছে। বাকি পাঁচটি শর্তও পরিপালনের প্রক্রিয়াধীন, যা ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের মধ্যেই পরিপালন হবে বলে এডিবিকে আশ্বস্ত করেছিল সরকার। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট’ প্রণয়ন।

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-২ (সিএমডিপি)-এর আওতায় প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে এডিবি যে সব শর্ত দিয়েছে এর মধ্যে ‘ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট’ অন্যতম।এদিকে এডিবিকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সরকার ‘ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিলেও আইনটি প্রণয়নে শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছে ‘দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ’ (আইসিএবি)। এ আইনের বিষয়ে অর্থমন্ত্রণালয় থেকে আইসিএবির মতামত চাওয়া হলে ‘ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্টে’র পরিবর্তে আইন সংশোধন করে আইসিএবিকে আরও শক্তিশালী করার ব্যাপারে মত দেওয়া হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।

আইসিএবির মতে, এ আইন নিরীক্ষা পেশার স্বাধীনতা ক্ষুণ করার পাশাপাশি হিসাব ও নিরীক্ষা পেশা নিয়ন্ত্রণে দ্বৈততার কারণে সাংঘর্ষিক ও অচল অবস্থার সৃষ্টি করবে। পরবর্তীকালে এ আইন আর্থিক হিসাব বিবরণী তৈরি ও নিরীক্ষা কাজকে বাধাগ্রস্ত করবে।

প্রস্তাবিত ‘ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট’-এ বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে ‘ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল’-এর (এফআরসি) সদস্য করা হয়েছে।

আইনটি বর্তমানে ভেটিং-এর জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। জাতীয় সংসদে এটি উপস্থাপন করা হলেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থছাড় করবে এডিবি।