বিয়ে না করলে পস্তাতে হবে!

0
3614
marriage

বিয়েকে অনেকে তুলনা করেন দিল্লিকা লাড্ডুর সঙ্গে। খেলেও পস্তাতে হয়, না খেলেও। কিন্তু সম্প্রতি মার্কিন এক গবেষণায় উঠে এসেছে বৈবাহিক সম্পর্ক দীর্ঘজীবন লাভের অন্যতম পূর্বশর্ত। অর্থাৎ বিয়ে না করলেই পস্তাতে হবে।marriage

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার ডিউক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও গবেষক ইলিন সিয়েগলার ও তার সহযোগী গবেষকরা।

ইলিন বলেন, মাঝবয়সে একজন সঙ্গী বা সঙ্গিনী থাকলে সুরক্ষিত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এ বয়সে একাকীত্ব মানুষকে ক্রমেই আশা ও ভবিষ্যতের প্রতি আস্থাহীন করে তোলে।
একজন মানুষের সার্বিক জীবনধারণ প্রক্রিয়ার ওপর বিয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিবাহিত জীবনে যারা সুখী তারা স্বাভাবিকভাবেই স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন।

তাদের বন্ধু-বান্ধবের সংখ্যাটাও বেশি ও স্বামী-স্ত্রী যত্ন নিতে পরস্পরকে উৎসাহিত করেন। আর অনায়াসে সেটা মৃত্যুঝুঁকিকেও কমিয়ে দিতে পারে।

অন্যদিকে গবেষণার ফলাফলে অবিবাহিতদের জন্য রয়েছে বড় দুঃসংবাদ। বিশেষ করে মাঝবয়সে; বিবাহিতদের তুলনায় অবিবাহিতদের মৃত্যুঝুঁকি ৩ গুণ বেশি। এখানে বিবাহিত জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সুসম্পর্ক থাকাটাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ৪০ বছর বয়সের পর একা থাকা, সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে হারিয়ে নতুন করে বিয়ে না করলে মৃত্যুঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। মূলত নিঃসঙ্গ বা একা জীবন মানুষকে অস্থির করে দেয়। হতাশা ভর করে এই বয়সে। এমনকি তাদের পক্ষে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এই সময়ের আগেই অবিবাহিতরা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে।

গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি অঙ্গরাজ্যের সঙ্গী ও সঙ্গিহীন ৪ হাজার মানুষের ওপর সমীক্ষা চালান। তারা আরও ৪ হাজার মানুষের জীবন ইতিহাস সংগ্রহ করেন। গবেষণায় আরো বলা হয়েছে- এমনকি বিবাহিত যেসব মানুষের ধূমপান বা অ্যালকোহল পানের অভ্যাস আছে, তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা, সঙ্গিহীন মানুষের তুলনায় ৩ গুণ বেশি।
ইউএম/