তোবা মালিককে জুলাইয়ের বেতন দিতে বাধ্য করবে সরকার

0
131
মোশরেফা মিশুকে আটক করছে পুলিশ। ছবি- মহুবার রহমান
মোশরেফা মিশুকে আটক করছে পুলিশ। ছবি- মহুবার রহমান
মোশরেফা মিশুকে আটক করছে পুলিশ। ছবি- মহুবার রহমান

শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু জানিয়েছেন,  তোবা গ্রুপের মালিক দেলোয়ার হোসেন শ্রমিকদের জুলাই মাসের বেতন ১০ আগস্টের মধ্যে না দিলে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে বেতন প্রদানে বাধ্য করা হবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তোবা গ্রুপের শ্রমিকদের বেতন নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা জানান।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ১০ তারিখের মধ্যে তোবা গ্রুপের ৫টি কারখানার শ্রমিকদের জুলাই মাসের বেতন প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মালিক কিভাবে এই বেতন প্রদান করবেন কিংবা কোথা থেকে এই টাকা আনবেন সরকার এটা জানে না। তাকে বেতন দিতে হবে এটা সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, আর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন প্রদান না করলে সরকারিভাবে এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালিককে বেতন প্রদানে বাধ্য করা হবে।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী এসময় আন্দোলনরত কর্মীদের উদ্দেশ বলেন, এমন কোনো কর্মসূচি দিবেন না, যাতে শুধু শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অনুষ্ঠানে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান বলেন, ১০ তারিখের মধ্যে মালিক বেতন না দিলে সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার তাই করা হবে। প্রয়োজনে সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও মালিককে বেতন দিতে হবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে আন্দোলন করলে তা হঠকারিতায় রূপ নেয়। এই হঠকারিতা বুঝতে পেরে ৯৫ ভাগ শ্রমিক বেতন নিয়ে গেছেন।

শ্রমিকদের বেতন দেওয়াকে কেন্দ্র করে ‘পানি ঘোলা করার’ চেষ্টা করা হচ্ছে- উল্লেখ করে শাহজাহান খান বলেন, বহিরাগত কিছু লোক গতকাল কারখানা ভবনে আক্রমণ করেছিল। তবে সরকার এই ব্যাপারে সর্তক রয়েছে।

কোনো শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রী জানান তিনি জানেন না।

আতিকুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে তোবা গ্রুপের ১ হাজার ৩১৫ জন শ্রমিককে দুই মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে। বাকিদের কিছু সময়ের মধ্যে দেওয়া হবে।

তিনি জানান, তোবার মিতা ডিজাইনের ১২১ শ্রমিকের মধ্যে ১২০ জন, তাইফ ডিজাইনে ৩৪৫ জনের মধ্যে ৩৪০ জন, তোবা ফ্যাশনের ২৯৫ জনের মধ্যে ২৫০ জন, বুকশানের ৪০৬ জনের মধ্যে ১৭১ জন ও তোবা টেক্সটাইলের ২৯১ জনের মধ্যে ২৭০ জন শ্রমিক তাদের বেতন নিয়েছেন।

এদিকে বিজিএমইএ এর কাউন্টার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তোবা গ্রুপের ১ হাজার ৪৯৫ জন শ্রমিকের মধ্যে ১ হাজার ৪৭৫ জন শ্রমিককে দুই মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে। বাকিরা আসলে তাদেরকেও বেতন দেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, বেতন নেওয়া  মিতা ডিজাইনের ১২১ শ্রমিকের মধ্যে ১২০ জন, তাইফ ডিজাইনে ৩৫৩ জনের মধ্যে ৩৫৩ জন, তোবা ফ্যাশনের ২৯৫ জনের মধ্যে ২৯১ জন, বুকশানের ৪৩২ জনের মধ্যে ৪২০ জন ও তোবা টেক্সটাইলের ২৯৫ জনের মধ্যে ২৯১ জন শ্রমিক তাদের বেতন নিয়েছেন। এছাড়া তিন জনকে গত এপ্রিল মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে যা এই হিসাবের বাইরে।