ঈদের আগের চাপ সামলাতে ধার বাড়িয়েছে ব্যাংকগুলো

দীর্ঘদিন ধরে দেশের ব্যাংক খাত ডলার সংকটে রয়েছে। পাশাপাশি ঈদের আগে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তোলার চাপ বেড়েছে। এ সময়ে সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো চাহিদা মেটাতে ধার নেওয়া বাড়িয়েছে।

গতকাল সোমবার (১ এপ্রিল) এক দিনেই বিভিন্ন ব্যাংক ২৫ হাজার কোটি টাকা ধার করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকে গতকাল বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য রেপো, লিকুইডিটি সাপোর্ট সুবিধা, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর জন্য ইসলামিক ব্যাংকস লিকুইডিটি সুবিধার (আইবিএলএফ) নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।

এই নিলামে একদিন মেয়াদি রেপো সুবিধার আওতায় পাঁচটি ব্যাংক ৩ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা, সাতদিন মেয়াদি রেপো সুবিধার আওতায় ২০টি ব্যাংক ও ৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৯ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা, একদিন মেয়াদি লিকুইডিটি সাপোর্ট সুবিধার আওতায় ১৭টি প্রাইমারি ডিলার ব্যাংক মোট ১০ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকার বিড বা দরপ্রস্তাব দাখিল করে।

এছাড়া ১৪ দিন মেয়াদি রেপো ফ্যাসিলিটি হিসেবে একটি ব্যাংক ৫৩৭ কোটি এবং ১৪ দিন মেয়াদি ইসলামিক ব্যাংকস লিকুইডিটি সুবিধার আওতায় ২টি ব্যাংক ৫৭০ কোটি টাকার দরপ্রস্তাব জমা দেয়। নিলাম কমিটি সব দরপ্রস্তাবই গ্রহণ করে। ফলে রেপো, লিকুইডিটি সাপোর্ট সুবিধা, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি ও আইবিএলএফের আওতায় সব মিলিয়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অনেক দিন ধরে সরকারি হিসাবেই মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের কাছাকাছি আছে। গত ডিসেম্বরের মধ্যে এই মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের নিচে এবং আগামী জুনে সাড়ে ৭ শতাংশের নিচে নামানোর ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও মূল্যস্ফীতি কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ। রোজার কারণে চলতি মাসের বেশির ভাগ পণ্যের দর আরেক দফা বেড়েছে।

জিনিসের দর বেশি থাকলে স্বাভাবিকভাবে মানুষের সঞ্চয় ক্ষমতা কমে। এর মধ্যে আবার ডলার বিক্রির বিপরীতে বাজার থেকে টাকা উঠে আসছে। চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বিক্রির বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে উঠেছে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি। আবার সরকারের ঋণ চাহিদার বেশির ভাগই ব্যাংক থেকে তোলা হচ্ছে।

অর্থসূচক/এমএইচ/এএইচআর

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.