৯০ ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য ও কানাডা

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসকে সামনে রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনে অভিযুক্ত ৯০ ব্যক্তির ওপর সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) এই নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। নিষেধাজ্ঞার দীর্ঘ তালিকায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানবপাচারকারী, আফগানিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত তালেবান কর্মকর্তা থেকে শুরু করে হাইতির সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের নেতারা রয়েছেন।

গত বছর থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ইস্যুতে এক ডজন দেশের দেড় শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন রাজস্ব দপ্তর। বাজেয়াপ্ত করেছে তাদের সম্পদ। এসব ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করলে মার্কিন নাগরিকরাও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে আগামীকাল ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসকে সামনে রেখে যুক্তরাজ্য ৪৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তাদের সম্পদ জব্দ ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা।

যুক্তরাজ্যের তালিকায় বেলারুশের আইনব্যবস্থার ১৭ সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন অ্যাক্টিভিস্ট, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ আনা প্রসিকিউটররা।

ইরানে বাধ্যতামূলক হিজাব আইন জারি ও বাস্তবায়নে জড়িত পাঁচ ব্যক্তিকে তালিকায় রাখা হয়েছে। এছাড়া কম্বোডিয়া, লাওস ও মিয়ানমারের নয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনলাইনে প্রতারণার মাধ্যমে মানবপাচারের জড়িত থাকার অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

১৩ দেশের ৩৭ ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর কানাডা যৌথ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সাত ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের মধ্যে মাজিদ দাস্তজানি ও মোহাম্মদ মাহদি খানপুর আরদেস্তানি নামের দুই ইরানি গোয়েন্দা কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত জেনারেল কাসেম সোলায়মানি হত্যার প্রতিশোধ নিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে নজরদারি ও হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন তারা।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, আজকের পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের কয়েকটি ক্ষতিকর ও ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনকে শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সংঘাত সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতা, জোরপূর্বক শ্রম এবং আন্তর্জাতিক নিপীড়ন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় তালেবানের এক সিনিয়র কর্মকর্তা রয়েছেন। ২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর নারী ও মেয়েদের শিক্ষা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই কর্মকর্তা জড়িতছিলেন।

ব্লিঙ্কেন বলেছেন, শুক্রবার জারি করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি হাইতির চারটি অপরাধী চক্রের নেতা ও ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর পাঁচটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে আহ্বান জানাবে ওয়াশিংটন।

কানাডার নিষেধাজ্ঞায় তালিকায় চেচনিয়ায় এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের অধিকার লঙ্ঘনে জড়িত চার রুশ নাগরিক এবং মিয়ানমার জান্তা প্রধান রয়েছেন।

অর্থসূচক/এএইচআর

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.