হিলি স্থলবন্দরে গত অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত

0
61
হিলি স্থলবন্দর
হিলি স্থলবন্দর
হিলি স্থলবন্দর

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর হরতাল অবরোধসহ নানান প্রতিকূলতার মাঝেও গত অর্থ বছরে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

২০১৩-১৪ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক বেধে দেওয়া ১শ ৫৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকার বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে ১শ ৫৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। আমদানিকারকদের হয়রানি বন্ধ, রাস্তাঘাট, পানামা পোর্টের অভ্যন্তরে জায়গা সম্প্রসারণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধিসহ দ্বিগুণ রাজস্ব আয় করা সম্ভব বলে মনে করছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।

হিলি কাস্টমস নথি থেকে জানা যায়, এই বন্দরটি প্রতি বছরই ধারাবাহিকভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে চলেছে। কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পাশাপাশি দ্বিগুণ, তিনগুণ এমনকি চারগুণ পর্যন্ত রাজস্ব আয় করা সম্ভব হয়েছে।

আমদানিকৃত পণ্যগুলোর মধ্যে ছিল পিঁয়াজ, কাঁচামরিচ, মাছ, আপেল, কমলা, আঙ্গুরসহ বিভিন্ন কাঁচাপণ্য ইত্যাদি। আর রপ্তানীকৃত পণ্যের মধ্যে ছিল চিটাগুড়, ড্রাইসেল ব্যাটারী, পানির পাম্প ইত্যাদি উল্লেখ যোগ্য।

আমদানিকারক গ্রুপের আহ্বায়ক হারুন উর রশিদ হারুন জানান, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে পানামা পোর্ট পর্যন্ত সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে পানামা পোর্ট মাত্র ৫ থেকে ৬শ গজের এই এক মাত্র রাস্তাটি সুপ্রশস্ত না হওয়ায় সারাক্ষণ যানজট লেগেই থাকে। তার ওপর বন্দর অভ্যান্তরে ওয়্যারহাউস সহ জায়গা সল্পতার কারণে আমদানিকৃত পণ্যবাহী অতিরিক্ত ট্রাক প্রবেশ করানো সম্ভব হয় না।

এ সমস্যাগুলো দূর করতে পারলে এ বন্দর থেকে দ্বিগুণ রাজস্ব আয় করা সম্ভব। আমদানিকারক ওয়াহেদুর রহমান রিপন বলেন, কাস্টমস জটিলতার কারণে হিলির স্থানীয় অনেক ক্ষুদ্র আমদানিকারক হিলি বন্দর ছেড়ে অন্যান্য বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি করছে। এ বন্দরে কাস্টমসের জটিলতা দূর করা গেলে আরও রাজস্ব বাড়বে পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র আমদানিকারকরা এ বন্দর ব্যবহারে উৎসাহিত হবে।

বাংলাহিলি কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দর বিষয়ক সম্পাদক জামিল হোসেন চলন্ত জানান, নানা প্রতিকূলতার মাঝেও অর্জিত সাফল্যে বন্দরের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করবে।

কাস্টমস সহকারী শাকিল খন্দকার জানান, গত অর্থ বছরের শুরুর দিকে হরতাল, অবরোধসহ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে আমদানি ও রপ্তানি কম হওয়ায় রাজস্ব আহরণে পরিমাণ কম ছিল। পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক বেধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আয় করেছে বন্দরটি।

এসআরএস/সাকি