আমজাদের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত জার্মান রাষ্ট্রদূত

0
63
আমজাদ মোল্লার তৈরী করা জার্মানির পতাকা
আমজাদ মোল্লার তৈরী করা জার্মানির পতাকা
আমজাদ মোল্লার তৈরী করা জার্মানির পতাকা

‘তিনজন দর্জিকে মোট ৪০ হাজার টাকা মজুরি দিয়েছি। পতাকা তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এক যুগ ধরে অল্প অল্প করে ওই পতাকা তৈরি করি। অভাবী সংসারে এজন্য নানা গঞ্জনাও সহ্য করতে হয়েছে আমাকে’। কথা গুলো বলেছেন মাগুরা পৌরসভার ঘোড়ামারা গ্রামের কৃষক আমজাদ মোল্লা (৬৫)।

তিনি বলেন, প্রায় তিন দশক আগে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছিলাম। কোনো ওষুধে কাজ হচ্ছিল না। শেষে জার্মানির তৈরি একটি হোমিও ঔষধ খাই। তাতে কাজ হয়। ক্রমেই জটিল রোগ থেকে মুক্তি লাভ করি। তখন থেকে জার্মানির প্রতি আমার ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জন্মায়।

আমজাদ মোল্লা জানান, জার্মানির প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে ২০০৬ সালে প্রায় ৩৫০ গজ লম্বা জার্মানির একটি পতাকা তৈরি করেন। ওই বছর বিশ্বকাপ চলাকালে ওই পতাকাটি প্রদর্শনের জন্য মাগুরা শহরে নিয়ে যান। মানুষ তখন এটিকে পাগলামি বলেই ধরে নিয়েছিল। তবুও জার্মানির প্রতি তার ভালোবাসা এতটুকু কমেনি, বরং বেড়েছে। ওই বিশ্বকাপের পর পতাকা বড় করার কাজে মনোযোগী হন আমজাদ।

২০১০ সালের বিশ্বকাপের আগে পতাকাটি প্রায় সাত হাজার গজ লম্বা করেন আমজাদ। ওই বছর গ্রামের লোকজন নিয়ে পতাকাটি মাগুরা শহরের নোমানী ময়দানে এসে প্রদর্শন করেন। চলতি বিশ্বকাপের আগে পতাকাটি প্রায় তিন কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা করেন।

আমজাদ মোল্লার ভালোবাসা বৃথা যায়নি। শনিবার দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ড. ফারদিনান্দ ফন মাগুরার রামনগর এলাকায় জার্মান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত টেকসই গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প দেখতে আসেন। ওই প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে বেলা দুইটার দিকে তিনি মাগুরা স্টেডিয়ামে যান। সেখানে আমজাদ হোসেনের তৈরি করা প্রায় তিন কিলোমিটার লম্বা পতাকাটি প্রদর্শন করা হয়।

পতাকাটি দেখে মুগ্ধ ও আবেগাপ্লুত হন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ড. ফরদিনান্দ ফন ভায়া। জার্মানির প্রতি আমজাদের ভালবাসার সম্মাননা হিসেবে তার হাতে ‘জার্মান ফুটবল দলের ফ্যান ক্লাবের আজীবন সদস্যের‘ কাগজ তুলে দেন। এ সময় তাকে একটি ফুটবল ও জার্মানির জার্সিও উপহার হিসেবে দেন রাষ্ট্রদূত। অন্যদিকে আমজাদ মোল্লা জার্মান রাষ্ট্রদূতের হাতে কুলা, বাঁশি, ঢালাসহ কিছু উপহার সামগ্রী তুলে দেন। এ সময় মাগুরা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশের সেক্টর বিশেষজ্ঞ মেহেদী হাসান উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত পরে ঘোড়ামারা গ্রামে আমজাদ মোল্লার বাড়িতেও যান।

জার্মানির প্রতি আমজাদের ভালোবাসায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি অভিভূত। ভালোবেসে জার্মানির এত বড় পতাকা এর আগে কেউ তৈরি করেছে বলে আমার জানা নেই। বাংলাদেশের একজন কৃষক ওই পতাকা তৈরি করায় তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’