ব্যস্ততা কাটছে না ইসলামপুরের ব্যবসায়ীদের

0
91
market
ইসলামপুরের পাইকারি পোশাকের বাজার- ফাইল ছবি
market
ইসলামপুরের পাইকারি পোশাকের বাজার- ফাইল ছবি

দেশি কাপড়ের পাশাপাশি বিদেশি কাপড়ের বিশাল সম্ভার পুরান ঢাকার ইসলামপুর। এখানে রয়েছে থান কাপড়, থ্রি পিস, শাড়ি কাপড়সহ সব ধরনের পাইকারি ও খুচরা কাপড়ের বাজার।

দামে সস্তা এবং উন্নতমানের কাপড় ক্রয়ের জন্য তাই দেশের প্রায় সব এলাকা থেকে ক্রেতারা আসেন ঐতিহ্যবাহী এই এলাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ১৭৭৩ সাল থেকে এখানে পাইকারি কাপড়ের ব্যবসা। এবার পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে পাইকারি এবং খুচরা বাজারে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

তারা জানান, প্রতিদিন এই বাজারে গড়ে ৫০-৬০ কোটি টাকার কাপড় বিক্রি হয়। ঈদের সময়ে তা কখনো শত কোটি টাকাও ওঠে।

ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানের কিছু দিন আগ থেকে কোরবানির ঈদের কিছুদিন পর পর্যন্ত প্রায় চার মাস ব্যবসা বেশি হয়। সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও ইসলামপুরে বছরে ১৫ থেকে ১৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কাপড় বিক্রি হয়।

শুক্রবার ইসলামপুরের জাহাঙ্গীর টাওয়ারের নিচে বেবিট্যাক্সির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় সুজাউল ইসলাম বাবু এবং সান্তা ইসলাম দম্পতিকে। রামপুরা থেকে পরিবারসহ এসেছিলেন ঈদের কেনাকাটা করতে। তারা জানান, ইসলামপুরের কাপড়ের সুনাম রয়েছে দেশের সর্বত্র। এখানে সাধ্যের মধ্যে দেশি-বিদেশি সব ধরনের কাপড় পাওয়া যায়। তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে কাপড় কিনতে এসেছি।

তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার সমালোচনা করে তারা জানান, এখানে রাস্তাগুলো বেশি ভালো না হওয়ায় একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে যায়। সরকার এ ব্যাপারে যত্নবান হেল ক্রেতারা শান্তিতে কেনাকাটা করতে পারবেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, ইসলামপুরের পোশাকের চাহিদা রয়েছে দেশের বাইরেও। আমেরিকা, সৌদি আরব ও কানাডায় মেয়েদের থ্রি-পিস এবং আমেরিকা, জার্মানি, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় ছেলেদের শার্ট-প্যান্টের কাপড় রপ্তানি হয়।

শুক্রবার কথা হয় ইসলামপুরের হাজী হাসেম প্লাজার থান কাপড়ের ব্যবসায়ী আব্দুল আলিমের সাথে। অর্থসূচককে তিনি জানান, ব্যবসা অনেকটা শেষের পথে, আমাদের কাছ থেকে কাপড় নিয়ে ব্যবসায়ীরা থ্রি পিস বানিয়ে বাজারে ছাড়ছেন।

থান কাপড়ের ব্যবসা সম্পর্কে তিনি বলেন, এ বছর দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ভালো থাকায় ব্যবসা ভালো হচ্ছে।

ব্যবসা ভালো হচ্ছে জানিয়ে সিফাত ক্লথ স্টোরের মালিক শাকিল আহম্মেদ বলেন, দেশের সার্বিক অবস্থা ভালো থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতারা আসছেন। আমরা চাই দেশের অবস্থা ভালো থাকুক।

পাইকারী দোকানদারদের কাছে খবর নিয়ে জানা গেছে, এ বছর থ্রি পিসের মধ্যে পাকিস্তানের লোন থ্রি পিস বেশি বিক্রি হচ্ছে।

ইসলামপুর পাইকারি মার্কেট সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার ঢালী জানান, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে পাইকারি পোশাকের বাজারে ব্যস্ততাও তত বাড়ছে। এখানকার পাইকারি দোকানগুলোতে অন্য যেকোনো পাইকারি মার্কেটের চেয়ে ভিড় বেশি। কেনাবেচাও গতবারের চেয়ে ভালো।

এমআই/এএসএ/