ফিলিস্তিনিদের জন্য কাঁদলো-কাঁদালো শিশুরা

0
79
gaza
গাজায় হামলা বন্ধে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন।
gaza
ফিলিস্তিনে শিশু হত্যা বন্ধ করতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বাংলাদেশি শিশুরা

‘আমি-তুমি আমরা সবাই ঘরে ফিরি প্রতিদিন

নিরাপদে ফিরে আসি স্বাধীনতা নিশিদিন।

আমার যত ভাই-বোন থাকে ফিলিস্তিন

ঘুমের নীড়ে আসে না ফিরে নিত্যবাধাহীন।

আর কোনো শিশু যেন মরে না

আর কোনো মা যেন কাঁধে না’।

এ ধরনের আবেগময় গান গেয়ে শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে কাঁদলেন ও অন্যদের কাঁদালেন জাতীয় শিশু-কিশোর সংঘঠন কলরবের শিশু শিল্পীরা।

ইসরায়েলের হাত থেকে ফিলিস্তিনি শিশুদের রক্ষায় এক মানববন্ধনে এভাবে আবেগী কণ্ঠে গান গেয়ে কাঁদলেন কোমলমতি শিশুরা।

দুপুরের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে শিশুদের গান শুনে চোখের পানি মুছলেন অনেকেই। বাদ যায়নি প্রেসক্লাবে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরাও। শুধু নারী পুলিশ নয়, কয়েকজন পুরুষ পুলিশের চোখের কোণেও ভেসে ওঠল টলমল অশ্রু।

শিশুদের গানে মুগ্ধ হয়ে কয়েকজন সাংবাদিক সংগঠনের পরিচালক রশিদ আহমেদ ফেরদৌসকে আরেকটু সময় গান গাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। আর তাতে মানববন্ধনের নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও বাঁধা দেয়নি পুলিশ।

অসহায় ফিলিস্তিনি শিশুদের জীবন বাঁচাতে কলরবের শিশুদের গানে কিছু সময়ের জন্য হলেও উপস্থিত সবাই ফিলিস্তিনি হত্যাযজ্ঞের কল্পজগতে চলে গেলেন। কেউ ফেলেছেন দীর্ঘশ্বাস।

বাংলাদেশ থেকে ফিলিস্তিন কত দূর, কিংবা কি নিয়ে যুদ্ধ হচ্ছে সেখানে, কেন ইসরায়েলি সেনারা ফিলিস্তিনি শিশুদের হত্যা করছে- এসবের উত্তর না জানলেও তারা যে অসহায়, নিরপরাধ শিশু; এটাই যেন বিশ্বকে জানাতে চায় বাংলাদেশি শিশুরা।

তাই ফিলিস্তিনি শিশু হত্যা বন্ধ কর, আমরা বাঁচতে চাই, শিশুদের জীবনের নিরাপত্তা দাও, যারা শিশু হত্যা করে ওদের বিচার কর এই ধরনের স্লোগান লেখা বিভিন্ন প্লে-কার্ড নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে এসেছিল এসব শিশু। তাদের চোখে-মুখে দেখা গেছে এক ধরনের আতঙ্কের ছাপ। কোনো কোনো শিশু ব্যানারে থাকা আহত-নিহত ফিলিস্তিনি শিশুদের ছবির দিকে তাকিয়ে ছিল অপলক।

ফটো সাংবাদিকদের তারা যেন বলছিল, তোমাদের ফটোর মাধ্যমে সারা বিশ্বকে জানিয়ে দাও- বিশ্বের শিশুরা বাঁচতে চায়, তাদের বাঁচার অধিকার আছে। আগামি বিশ্বকে এসব শিশুরাই তো নেতৃত্ব দেবে।

ফিলিস্তিনসহ সারা বিশ্বে শিশু হত্যা বন্ধ করতে গানে গানে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানবন্ধনে  জাতীয় শিশুকিশোর সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কলরব’র পরিচালক রশিদ আহমেদ বলেন, ফিলিস্তিনসহ বিশ্বে আর কোনো দেশে শিশুদের যেনো হত্যা করা না হয়। যারা শিশুদের হত্যা করে তারা মানুষ না।

তিনি  বলেন, বিশ্ববাসীর কাছে একটাই অনুরোধ, একটাই দাবি, আর যেন একটি শিশুও এভাবে হত্যার শিকার না হয়।

উল্লেখ, গত চার দিনে গাজায় মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ১০৫ এ দাঁড়িয়েছে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক ও শিশু। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, মঙ্গলবার থেকে শুরু করে এ যাবত তাদের সামরিক বাহিনী ১০০০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। গাজায় সন্ত্রাস বন্ধে প্রয়োজনে ২০১২ সালে যে শক্তি তারা ব্যয় করেছিলেন, তার দ্বিগুণ শক্তি এবার কাজে লাগাচ্ছেন বলে হুঁসিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

এস রহমান/