খুলনায় ইলিশের দাম চড়া

0
59
Hilsha_arthosuchak
ইলিশ মাছ। ফাইল ছবি
Hilsha_arthosuchak
ইলিশ মাছ (ফাইল ছবি)

ভরা মৌসুমেও খুলনা বাজারে চড়া ইলিশ মাছের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা না পড়ায় খুলনার বিভিন্ন বাজারে চড়া দামে বিক্রি করতে হচ্ছে ইলিশ।

নগরীর তারের পুকুর পাড়, নতুন বাজার, বড়বাজার, মিস্ত্রিপাড়া বাজার, নিউমার্কেট কাঁচা বাজার, ময়লা পোতা সান্ধ্য বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আকার অনুসারে ইলিশের মূল্য কেজি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের ইলিশ বাজারে তেমন একটা দেখা যায় না।

খুচরা মাছ বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এক কেজি ওজনের ইলিশ ১০০০ থেকে ১২০০টাকা এবং ৭ শ’ থেকে ৮ শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তারা জানান, বঙ্গোপসাগরের মোহনা, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে শতশত জেলে প্রতিদিনই রূপালি ইলিশের আশায় জাল-নৌকা নিয়ে নদীতে যান জেলেরা। কিন্তু তাদেরকে বেশিরভাগ সময় শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে। সুন্দরবন সংলগ্ন নদীগুলোতেও একই চিত্র। যার কারণে তাদের বেশি দামে ইলিশ কিনতে ও বিক্রি করতে হচ্ছে।

জেলেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইলিশ মৌসুম শুরু হতেই জীবিকার সন্ধানে প্রতিদিন শত শত জেলে নদীতে নামছেন। তবে জালে তেমন একটা ইলিশ ধরা পড়ছে না। তাই হতাশ সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার বিভিন্ন উপজেলার জেলেরা। শুধু তাই নয়, মহাজনের ঋণের দায়ে মরণফাঁদে আটকে গেছেন এসব ইলিশ শিকারীরা।

জেলেরা জানান, সাগর মোহনার বাইরেও খুলনা-সাতক্ষীরা এবং বাগেরহাট জেলার সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় বিভিন্ন উপজেলার কয়েক হাজার জেলে পশুর, শিবশা, কাজিবাছা, বলেশ্বর, ভোলা, বিষখালি, পারসিয়াসহ বিভিন্ন নদীতে ইলিশ ধরতে জাল ফেলছেন। ইঞ্জিন চালিত ট্রলার এবং বৈঠাচালিত জেলে নৌকায় প্রায় ৫০ হাজার জেলে উপকূলীবর্তী এসব নদীতে নামছেন। তবে এর মধ্যে শুধুমাত্র পশুর নদীতে নামছেন ৫ হাজার বৈঠাচালিত নৌকায় ২০ হাজার জেলে।

দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী এলাকার সালাউদ্দিন হাওলাদার জানান, গত ৩০ বছর ধরে তিনি পশুর নদীতে ইলিশ ধরছেন। তবে আগে ইলিশ পাওয়া গেলেও এখন তেমন একটা পাওয়া যায় না। এমন একটা সময় ছিলো যখন প্রচুর ইলিশ পেতেন। এমনকি গতবছরও তিনি দিনে ৪/৫টি ইলিশ ধরেছেন। আর এবার গত ১৫ দিন একটিও ইলিশ পাননি তিনি।

সালাউদ্দিন বলেন, মহাজনের কাছ থেকে দাদন (ঋণ) নিয়ে ইলিশ ধরতে এসেছি। তাই ইলিশ পাই আর না পাই মহাজনের দেনার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার কোন উপায় নেই।

মংলার পশুর নদীতে মাছ ধরতে আসা ইব্রাহিম জানান, অনেক জেলের নিজের জাল ও নৌকা থাকার পরও মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিতে হয়। এ মৌসুমে তিনি ৬০ হাজার টাকা দাদন নিয়েছেন। ইলিশ থেকে যে আয় হবে তা থেকে মহাজনের টাকা পরিশোধ করার কথা। তবে এবার ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না।

রূপসা পাইকারী মাছ ব্যবসায়ী রমজান আলী হাওলাদার জানান, প্রতিবছর এ সময়ে মাছঘাটে (আড়ৎ) ক্রেতাদের হাঁকডাকে সরগরম থাকলেও এ বছর তা নেই। আড়তে খালি বাক্স নিয়ে বসে থাকে কর্মচারীরা। আর বেতন গুনছেন আড়তদাররা।

এ ব্যাপারে খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রফুল্ল কুমার সরকার জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ও আদ্রতার কারণে গভীর সমুদ্র থেকে ইলিশের ঝাঁক এখনও উপরে উঠে আসেনি। এছাড়া সাগরে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় উজানে স্রোত কম। স্রোতে মাছের খাবার বয়ে আনে। ঝড়ো হাওয়া না থাকায় সাগর থেকে ইলিশ নদীতে আসছে না। কারণ তার মতে ঝড়ো আবহাওয়াসহ বৃষ্টিপাত বাড়লেই ইলিশ পাওয়া যাবে।