মরমী কবি পাগলা কানাইয়ের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

0
57
pagla kanai
মরমী লোককবি পাগলা কানাই। ছবি-নাসিম আনসারী
pagla kanai
মরমী লোককবি পাগলা কানাই। ছবি-নাসিম আনসারী

জিন্দাদেহে মুরদা বসন থাকতে কেন পরনা/মন তুমি মরার ভাব জাননা/ওরে মরার আগে না মরিলে পরে কিছুই হবে না ॥/আমি মরে দেখেছি, মরার বসন পরেছি /কয়েকদিন বেঁচে আছি/তোরা দেখবি যদি আয় পাগলা কানাই বলতেছি……এমনি শতশত গানের রচয়িতা মরমী লোককবি পাগলাকানাই। অন্যতম সাধক এই লোককবির ১২৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

লোক-সাধনা ও মরমী সঙ্গীতের এ কবি ঝিনাইদহের বেড়বাড়ি গ্রামে ১২১৬ সালের ২৫ ফাল্গুন জন্মগ্রহণ করেন। আর মৃত্যুবরণ করেন ১২৯৬ সালের ২৮ আষাঢ়।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বেড়বাড়ি গ্রামে পাগলা কানাই স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদ দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কবির সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল, ইফতার ও কাঙালীভোজ।

আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হাই,জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুল ওয়াহেদ জোয়ার্দ্দার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলকার নায়ন ও পাগলাকানাই স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড.আব্দুর রশীদ।

পাগলাকানাই স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের কোষাধ্যক্ষ আক্কাচ আলী জানান, পাগলা কানাই এর অবদান আমাদের সাহিত্যকে ঐতিহ্য মন্ডিতকরেছে। তার রচিত ৩ সহস্রাধিক গান থাকলেও আজও তা সংগৃহিত হয়নি।তাইকবির গান সংরক্ষণের দাবি জানান তিনি।

ঝিনাইদহের অঙ্কুর নাট্য একাডেমীর পরিচালক নাজিম উদ্দীন জুলিয়াস জানান, গবেষণার অভাব ও নানা সীমাবদ্ধতায় নতুন প্রজন্মের মানুষেরা ভুলতে বসেছে এই কবির জীবন দর্শন ও তার রচনা সম্পর্কে।

কবির সৃষ্ট গানগুলো সংরক্ষণ, গবেষণা ও মাজার প্রাঙ্গনে একটি কমপ্লেক্স তৈরী সহ রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান পাগলাকানাই স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ।

লালন পরবর্তী কালের অন্যতম মরমী সাধক ও লোককবি পাগলা কানাই রচিত গান সংরক্ষণ করে তার স্মৃতিকে ধরে রাখার আহবান ঝিনাইদহবাসীর।

এএসএ/