‘পাখি’র বাজার রমরমা

0
875
pakhi_dres
পাখি ড্রেস

pakhi_dresপ্রতিবছরই জনপ্রিয় কোনো সিনেমা অথবা সিরিয়ালের নায়ক বা নায়িকার নামে বড় উৎসবগুলোতে ড্রেস বের হয়। এসব পোশাক খুব সহজেই আকৃষ্টও করে ক্রেতাদের। গতবছর ‘ঝড় তুলেছিল’ ঝিলিক, আশিকি টু। আর এবার রোজার ঈদে সামনে রেখে বাজারে এসেছে ‘পাখি’। স্টার জলসার জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘বোঝেনা সে বোঝেনার’ নায়িকা পাখির নামে বের হওয়া এই ড্রেস সাড়াও জাগিয়েছে বেশ। এছাড়া মোদি ড্রেসও বেশ জনপ্রিয় এবার ঈদে।

শুক্রবার রাজধানীর মালিবাগ, মৌচাকের হোসাফ টাওয়ার, ফরচুন শপিং মল এবং মৌচাক মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। যা গত শুক্রবারের চেয়ে বেশি। এসব মার্কেটে ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন নিত্যনতুন পোশাকের বাহারী সম্ভার দেখা গেছে।

এবারের ঈদে পাখি, ফ্লোর টাচ, রাদিকা, সারারা, নাগিনী, জানেমান, আশিকি টু থেকে নয় পর্যন্ত এবং পরান পাখিসহ নানা নামের মেয়েদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে পাখি, ফ্লোর টাচের বিক্রি বেশ ভাল বলে জানিয়েছেন সালভোটেক্সের স্বত্বাধিকারী আবু বাকের।

তিনি বলেন, এবারের ঈদে আমরা বিভিন্ন রকমের পোশাক নিয়ে এসেছি। নতুন ডিজাইনের এসব পোশাক কিনতে ক্রেতারা বেশ আগ্রহী।

বিভিন্ন শপিং মল ঘুরে দেখা যায়, গত শুক্রবারের চেয়ে আজ ভিড় কিছুটা বেশি। বাচ্চা ও মেয়েদের পোশাকের বিক্রিও বেড়েছে। তবে ছেলেদের দোকানগুলোতে ভিড় বেশ কম।

বাড্ডা থেকে ফরচুনে এসেছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মৌটুসী। তিনি বললেন, অন্যান্য বছরের পোশাকের চেয়ে ‘পাখি’ ডিজাইন একটু আলাদা হওয়াই এটাই কিনছি। তাছাড়া দামটা রিজনেবল হওয়ায় ছোট দুই বোনের জন্যও এটাই নিচ্ছি।

কিডস এন্ড মমের ঐশী ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী মো. জুয়েল বলেন, এবার পাখি ও ফ্লোরা টাচের বিক্রি বেশি। দাম কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাখির দাম ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ৭০০ টাকা। আর ফ্লোরা টাচ পড়ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

এছাড়া জানেমানও বেশ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর দাম ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা।

গতবছরের জনপ্রিয় পোশাক আশিকি টু এবার বিক্রি হচ্ছে এর ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায়। আর নাগিনীর দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

বাসাবো এলাকা থেকে গৃহবধূ নাহার বানু এসেছিলেন মৌচাক মেয়ের ঈদের পোশাক কিনতে। তিনি কিনেছেন আশিকি টু। ‘গত বছরের চেয়ে এবার এই ড্রেসের দাম কমায় এটিই কিনলাম। তাছাড়া আমার মেয়ে শাহিনারও পছন্দ আশিকি টু’, বললেন নাহার।

এদিকে ছেলেদের বিভিন্ন পোশাকের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, এসব দোকানে এখনও বিক্রি জমে ওঠেনি। তবে সামনের দিনগুলোতে বিক্রি ভালো হবে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।

আর টেক্সের স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল বলেন, বেচাবিক্রি চলছে মোটামুটি। তবে এখনও তেমন জমে ওঠেনি। আশা করছি ১৫ রোজার পর ভালো হবে।

কথা হয় কল্যাণপুর থেকে ঈদের পোশাক কিনতে আসা শাহিনুর রহমানের সাথে। তিনি জানিয়েছেন, কেনার জন্যই এসেছিলাম। কিন্তু ঠিক কোনটা কিনব বুঝতে পারছি না। ভাবছি আর কয়েকদিন পরেই কিনব। তাছাড়া ছেলেদের পোশাকে তেমন কোনো নতুনত্ব চোখে পড়ছে না।