তিরিশের আগেই করে ফেলুন পনেরো কাজ

0
178
love
নিজেকে খুঁজুন ভিন্ন আঙ্গিকে

সময়ের সাথে বয়সটাও বাড়ছে। তিরিশে পা দিলে জীবনের বিশেষ একটি পর্যায়ে পৌঁছে যাবেন আপনি। ফেলে আসা সময়ের অনেক কিছুতেই আসবে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। তিরিশের পর চাইলেই আপনি নতুন করে অনেক কিছু করার সুযোগ পাবেন না। আফসোস হবে কিছু বিষয় নিয়ে। আর তাই তিরিশ ছোঁয়ার আগেই কিছু কাজ কমপক্ষে একবার করে হলেও করা উচিত। এই তালিকার অনেক কিছুতে আপনার আগ্রহ নাও থাকতে পারে বা পুরোপুরি অপছন্দও হতে পারে। তবে জীবনের অনেক কিছুই এখানে খুঁজে পেতে পারেন।

love
নিজেকে খুঁজুন ভিন্ন আঙ্গিকে

১. স্বপ্নের পেশায়ই ক্যারিয়ারের চেষ্টা করুন :

ধরুন, এখন শুধুমাত্র উপার্জনের জন্য কাজ করছেন। কিন্তু আপনি মনেপ্রাণে অন্য একটি পেশা বেছে নিতে চেয়েছিলেন, হয়তো সম্ভব হয়নি। তাতে কি, হতাশ নাহয়ে ত্রিশের আগেই ওই পেশায় চলে যাওয়ার চেষ্টা করুন। এর জন্য লেখাপড়া বা সময়ক্ষেপণের প্রয়োজন হলেও এগিয়ে যান। দেখবেন, অতি দ্রুত আপনি ওই পেশার জন্য দক্ষ হয়ে উঠবেন এবং এক সময় তা পেয়েও যাবেন।

২.স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করুন:

দরিদ্র শিশুকে বাঁচাতে অর্থ যোগানের কাজ বা রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রক্ত সংগ্রহ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তা প্রদান কার্যক্রমের মতো স্বেচ্ছাসেবক কর্মকাণ্ডে যোগ দিন। ত্রিশের আগে এসব কাজের অভিজ্ঞতা আপনাকে ভবিষ্যৎ দিক নির্দেশনা দিতে পারে।

৩. একাই বেরিয়ে পড়ুন:

নিজের পরিবার, অতীত, পরিচিত জায়গা সব কিছু থেকে অনেক দূরে সম্পূর্ন অচেনা একটি জায়গায় একা বেড়াতে গিয়েছেন কখনো? যদি না গিয়ে থাকেন তাহলে বয়স তিরিশ ছোঁয়ার আগেই ঘুরে আসুন একা একা দূরের কোনো সুন্দর স্থান থেকে। সারাজীবন মনে রাখার মত একটি ট্রিপ দিয়ে ফেলুন একা একাই। নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাবেন।

৪. প্রেমে পড়ুন:

নতুন প্রেমের শিহরণ ও ভালোবাসার দুর্দমনীয় চাওয়া-পাওয়ার সাথে পরিচিত হওয়ার সময় ত্রিশের আগেই। এ সময় প্রেমের অনুভূতিই থাকে ভিন্ন।

৫. ভবিষ্যতের জন্য বড় কিছু করুন:

আপনার সাধ ও সামর্থ্যের বাইরে না গিয়ে যতোটুকু সম্ভব সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলুন। হতে পারে ব্যাংকে একটি ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট খোলা বা কাজে লাগবে এমন কিছু কিনে রেখে দেওয়া ইত্যাদি। ত্রিশের পর হঠাৎ করেই এটি আপনার উপকারে লাগবে।

৬. দেশ-জাতির সবচেয়ে বড় আনন্দে সামিল হোন:

প্রতিটি জাতির সমাজ-সংস্কৃতির সাথে নানা আচার-অনুষ্ঠান ঐতিহ্যের সাথে মিশে থাকে। বড় কোনো জাতীয় উৎসবে শামিল হোন ত্রিশে পৌঁছানোর আগে। এর পরেও ইচ্ছেমতো দিনটি উপভোগ করুন। তবে ত্রিশের আগে অবশ্যই বঞ্চিত হবেন না।

৭. পূর্বসূরীদের সম্পর্কে জানুন:

নিজের বংশ পরিচয় জেনে নিন ৩০ এর আগে। আপনার পূর্ব পুরুষরা কোথা থেকে এসেছেন, তাদের পরিচয় কী ছিল ইত্যাদি জানা প্রয়োজন নিজের পরিচয় জানার জন্য। তাহলে নিজেকে নিয়ে নতুন কোনো উপলব্ধি আসতে পারে আপনার।

৮. কোনোদিন দেখা হয়নি এমন আত্মীয়ের সাথে দেখা করুন:

প্রত্যেকেরই এমন কিছু আত্মীয় থাকে যাদের সাথে কখনই দেখা হয়নি। অনেক দূর সম্পর্কের ভাই-বোন অথবা অন্য কোনো আত্মীয়, যার সাথে আপনার কখনই দেখা হয়নি তেমন কারো সাথে দেখা করুন। অদেখা সেই সব আত্মীয়দের সাথে নতুন করে আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় হবে।

৯. ফ্যাশনে পিছিয়ে থাকবেন না:

ত্রিশে এসে পোশাক, চুল বা অন্য ক্ষেত্রে ফ্যাশনের রুচি বদলায়। তাই ত্রিশের আগেই চলতি ফ্যাশনের সাথে হালনাগাদ থাকুন। এটি আপনাকে ফ্যাশন সচেতন হতে শেখাবে।

১০. নতুনদের সাথে সাক্ষাৎ করুন:

আপনি যা করতে পছন্দ করেন, সে কাজের সাথে জড়িত অন্যান্যদের সাথে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করুন ত্রিশের আগেই। এতে আপনার সংশ্লিষ্ট কাজের প্রতি দক্ষতা এবং স্পৃহা বৃদ্ধি পাবে।

১১.সুস্থ্য থাকার অভ্যাস গড়ুন:

ত্রিশের আগেই ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া,নিয়মমতো দিনযাপন ইত্যাদির অভ্যাস পরে নিয়ন্ত্রিত জীবন উপহার দেবে আপনাকে।

১২. পারিবারিক ঐতিহ্য গড়ে তুলুন:

নিয়মিত সাধারণ একটি আয়োজন পরিবারের ঐতিহ্য হয়ে উঠতে পারে। যেমন- প্রতি মাসে একবার সবাই একসাথে বাইরে ভাল একটা রেস্টুরেন্টে ডিনার করবেন। অথবা প্রতি তিন মাস পর পর দূরে কোথাও ঘুরতে যাবেন। আর এভাবে ত্রিশের আগেই পারিবারিক ঐতিহ্য গড়তেচেষ্টা করুন।

১৩.বাড়িতে সব বন্ধুদের নিয়ে পার্টির আয়োজন করুন:

ত্রিশের আগেই সব বন্ধুদের নিয়ে বাড়িতে একটা দিন হই-হুল্লোড়ে কাটিয়ে দিন। পরে এ সুযোগ নাও আসতে পারে। নিজেই গোটা আয়োজনের ব্যবস্থাপক হবেন। তবে পার্টি শেষে অবশ্যই বাসার সবকিছু আগের মতোই গুছিয়ে রাখবেন।

১৪.টিকে থাকার লড়াইয়ে সামিল হোন:

বড়শি আর টোপ নিয়ে মাছ ধরতে চলে যান। মাছ ধরে রান্না করে খাওয়া- গোটা কাজের অভিজ্ঞতা নেওয়ার চেষ্টা করুন। ফাঁদ পেতে পাখি ধরা বা শিকারে যাওয়া আপনাকে জীবন সম্পর্কে দারুণ শিক্ষা দিবে। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং পরনির্ভরতা কমবে।

১৫. একজন শত্রুকে বন্ধু বানিয়ে ফেলুন:

জীবনের সবচাইতে কাছের বন্ধু কারা হয় বলুন তো? যাদেরকে প্রথমে সহ্য করতে পারতেন না তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে নিলে তাঁরাই হতে পারে আপনার সবচাইতে কাছের বন্ধু। কারণ একজন মানুষের সব নেতিবাচক দিক গুলো আগেই জেনে এরপর তার ভালো দিক গুলো সম্পর্কে জানতে পারেন আপনি। তাই জীবনে অন্তত একজন শত্রুকে বন্ধু বানিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন।

ইউএম/