মিল্ক ভিটায় শ্রমিক নিয়োগে অনিয়ম অনুসন্ধানে দুদক

0
40

milk vitaবাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়নের (মিল্ক ভিটা) বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুর রহমানসহ নিয়োগ কমিটির সাত সদস্যের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে দুদকের সহকারি পরিচালক আমিরুল ইসলামকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন। আর তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপ-পরিচালক বেনজির আহমেদকে।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের আগস্টে মিল্ক ভিটার ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুর রহমানকে প্রধান করে সাত সদস্যের নিয়োগ কমিটি করেন তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।

গত মার্চে শ্রমিক নিয়োগের ব্যাপারে সমবায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকে মিল্ক ভিটা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত যারা মিল্ক ভিটায় অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন তাদের নাম তালিকাভুক্ত করতে হবে। আর নিয়োগ কমিটির সুপারিশ যাচাই-বাছাই করে তা সমবায় অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে অনুমোদন নিতে হবে।

তবে নিয়োগ কমিটি অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য না পাঠিয়ে গত ১৭ এপ্রিল ৫০০ শ্রমিকের নাম চূড়ান্ত করে চিঠি ইস্যু করে। যাতে নির্ধারিত সময়ে মিল্ক ভিটায় ছিলেন না এমন শ্রমিকরাও নিয়োগ পেয়েছেন। আর এতে নিয়োগ কমিটি প্রত্যেক শ্রমিকের কাছ থেকে এক থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা।

এর আগে অস্থায়ী শ্রমিকদের তালিকাভুক্তি করতে ঘুষ নেওয়া এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত ১৮ এপ্রিল মিল্ক ভিটার শ্রমিকরা সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় এবং মিরপুর দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাত কারখানায় বিক্ষোভ করেন। ওই সময় তারা একদিনের জন্য দুগ্ধ উৎপাদনও বন্ধ রাখেন।

আন্দোলনের মুখে নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করার কথা মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বললেও তা আশ্বাসেই থেকে যায়। পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দুদকে আসলে তা প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

দুদকে আসা অভিযোগপত্রে বলা হয়, নিয়োগ দেওয়া তালিকায় ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মিল্ক ভিটায় কাজ করেছেন এমন ১৫০ জন শ্রমিকের নাম রয়েছে। বাকি শ্রমিকরা নির্ধারিত সময়ে মিল্ক ভিটায় কাজ করেনি। কেউ কেউ আবার কোনো দিনই মিল্ক ভিটায় কাজ করেনি।