মানচিত্র ছোট করতে পারলেই হাসিনার লাভ: গয়েশ্বর

0
46
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ফাইল ছবি)

বাংলাদেশের মানচিত্রকে ছোট করতে পারলেই প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জন্য লাভ  বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

শুত্রুবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের উদ্যোগে দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশে দক্ষিণ তালপট্রির কোনো অস্তিত্ব ছিল না এবং বর্তমানেও নেই- প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে গয়েশ্বর বলেন, বাংলাদেশের মানচিত্রকে ছোট করতে পারলেই শেখ হাসিনার জন্য লাভ। তাই ভবিষ্যতে হয়তো দেখা যাবে শেখ হাসিনা বলবেন বাংলাদেশের কোনো অস্তিত নেই। কারণ তিনি ভূগোল ভালো বুঝেন না।

প্রসঙ্গত, গতকাল বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সমুদ্রে তালপট্টি দ্বীপের কোনো অস্বিত্ব নেই। এ নিয়ে কথা বলে সরকারের অর্জনকে খাটো করার চেষ্টা হচ্ছে।

এর আগে গত ৭ জুলাই নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের (পিসিএ) বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্র সীমা বিষয়ে রায় ঘোষণা করে। রায়ে বিরোধপূর্ণ আনুমানিক ২৫ হাজার ৬০২ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে বাংলাদেশ পেয়েছে ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গকিলোমিটার এবং ভারত পেয়েছে ৬ হাজার ১৩৫ কিলোমিটার।

পিসিএ’র রায়ে বলা হয়, হাড়িয়া ভাঙ্গা নদীর মোহনায় সৃষ্ট দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ এলাকা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার বাইরে পড়েছে। ৭০’র ঝড়ের পর সাতক্ষীরার দক্ষিণে সৃষ্ট এই দ্বীপের মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে ভারতের সঙ্গে।

সমুদ্রসীমার রায়ের প্রসঙ্গ তুলে বৃহস্পতিবারই সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভারত অযথাই বিরোধপূর্ণ বলে আমাদের সম্পদ নিয়ে নিয়েছে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির আন্দোলন সম্পর্কে গয়েশ্বর রায় বলেন, নাচ-গানের প্রস্ততি নিতে হলেও রিহার্সেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু নেত্রী ঈদের পর আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। অথচ দলের নেতা-কর্মীরা এখনও চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত নয়।

৫ জানুয়ারি নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যতটুকু দায়ী ঠিক বিএনপিও ততটুকু দায়ী। কারণ আমাদের আন্দোলন যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে ঠিক তখনই একটি আলোচনায় অংশ নেয় বিএনপির কিছু নেতা।

কর্মজীবি দলের সভাপতি হাজী লিটনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্ঠা শামসুজ্জামান দুদু, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের রহমতুল্লাহ প্রমুখ।

জেইউ/সাকি