জমেনি পাঞ্জাবীর বাজার

0
114

Panjabiকোনো উৎসবের দিনে বাঙালী পুরুষকে একটু বেশি সুন্দর লাগে পাঞ্জাবী পরলে। সাদা পাঞ্জাবীর সঙ্গে সাদা পায়জামার পরার রীতিও বহুদিনের। থ্রিজির এই যুগে এসেও পায়জামা-পাঞ্জাবীর কদর কমেনি এতোটুকুই।

বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে পাঞ্জাবী বিক্রি হলেও ঈদের সময়ে চাহিদা একটু বেশি হয়ে থাকে। তবে ঈদকে উপলক্ষ করে এখনো জমে ওঠেনি সদরঘাটের শরীফ মার্কেট। পাইকারিতে কিছুটা বিক্রি হলেও গত বছরের তুলনায় অনেক কম।

দোকান মালিকরা বলছেন, গত বছর এই সময় বিক্রি বেশি থাকলেও এবার তা নেই। পাইকারি বিক্রি প্রায় বাকিতে হচ্ছে। ব্যাংক ঋণ না পাওয়া বহু পাইকার পাঞ্জাবী কিনতে আসছেন না। এতে পাইকারি বিক্রি এখন পর্যন্ত কমেছে ৪০ শতাংশেরও বেশি। তবে এখনো পাইকারি বিক্রির সময় রয়েছে। পাঞ্জাবী ২০ রমজান পর্যন্ত পাইকারিতে বিক্রি হয়। এ ছাড়া পাইকাররা আর্থিক সংকটকেও একটু বড় করে দেখছেন।

দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটলেও আর্থিক সংকট প্রকট হচ্ছে। অনেকে গত বছরের বাকিতে কেনা পোশাকের বিল এখনো পায়নি। সব মিলিয়ে বিক্রি কমেছে।

কথা বলেছিলাম সদরঘাটের শরীফ মার্কেটের শিকদার গার্মেন্টসের মালিক সিরাজুল ইসলাম শিকদারের সঙ্গে। তিনি অর্থসূচককে জানান, গত বছরের এসময়ে মার্কেট দিয়ে হাটাই মুশকিল ছিল। এবার আর সেই অবস্থা নেই। ব্যাংক ঋণের জটিলতার কারণে খুচরা ব্যবসায়ীরা মাল কেনার টাকা পাচ্ছে না।

আর ঈদের পর রাজনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় বাকিও দিতে চাচ্ছে না মালিকরা। কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হলে বকেয়া টাকা আদায় হয় না। এতে মালিকরা আরও সংকটে পড়ে বলে জানান তিনি।

তার দোকানে রাজশাহী সিল্ক পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ থেকে ২১০০ টাকা, এন্টি সিল্ক ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, সাদা-কালো ২৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, ভারতীয় শেরওয়ানি ১ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাধন গার্মেন্টসের বিক্রেতা আব্দুস সাত্তার জানান, পাইকারিতে যে হারে বিক্রি হতো তা এবছর নেই। যে বিক্রেতা একবার মাল নিয়ে গেছেন তিনি আর আসছেন না। কারণ খুচরা পর্যায়ে বেঁচাকেনা বাড়ছে না। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দোকানে মাল তুলেছেন মালিক। তবে বিক্রি না বাড়ায় হতাশ বলে জানান তিনি।

নিউ জুয়েল গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপক আবার বললেন, গত বছরের তুলনা না হলেও মোটামুটি বিক্রি হচ্ছে। পাঞ্জাবী একটু দেরিতে বিক্রি হয় বলেও জানান তিনি। তার দোকানে ভারতীয় পাঞ্জাবী একপিস ৯০০ থেকে দেড় হাজার টাকা, ২ পিস ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা, শেরওয়ানি ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা, শর্ট পাঞ্জাবী ২৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা, সেমি লং ৬০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা, লং ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

জানা যায়, প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের তৈরি হওয়া পাঞ্জাবী রপ্তানি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, দুবাই, বাহরাইন, নাইজেরিয়া, সৌদি আরব-সহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় প্রতিটি দেশে এই পাঞ্জাবী রপ্তানি হচ্ছে। প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এই পাঞ্জাবী বিক্রির জন্য নিয়ে যান।