ব্রাজিলের হারে সংকটে দিলমা

0
45
brazil_protest_1
বিশ্বকাপ হারে ফুঁসছে গোটা ব্রাজিল- ফাইল ছবি
brazil_protest_1
বিশ্বকাপ হারে ফুঁসছে গোটা ব্রাজিল- ফাইল ছবি

হার! এটি শুধু বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে ব্রাজিলকে ছিটকে ফেললো না, সেই সাথে সংকটে ফেললো দিলমা প্রশাসনকেও।

অস্কার, ফ্রেড, দাভিদ লুইজ, দাতেরা হেরে গিয়ে প্যাঁচে ফেলে দিলেন প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফকে। ব্রাজিলের অকাল বিদায়ে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে গোটা দেশ। লজ্জায় মুখ ঢেকেছে প্রশাসন।

প্রেসিডেন্ট পদ থেকে দিলমা রুসেফের অপসারণ চেয়ে রাজধানী ব্রাসিলিয়ার পথে নেমেছে হাজার হাজার মানুষ। দিলমার নিন্দায় বিক্ষোভ চলছে সাও পাওলো, রিও ডি জেনেইরো, বেলো হরাইজন্তের মতো শহরেও।

প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এই ক্ষোভ অবশ্য নতুন নয়। বিশ্বকাপ আয়োজনের আভাস মিলতেই বিক্ষোভ দানা বাঁধছিল অর্থনৈতিক ভাবে বিধ্বস্ত দেশটিতে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে দেশ জুড়ে যখন সাজো সাজো রব, তখন ‘খাবার চাই, ফুটবল নয়’ স্লোগান মুখে পথে নেমেছিলেন হাজারো মানুষ।

স্টেডিয়ামগুলো সাজাতে, বিদেশি পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার পরিকাঠামো উন্নয়নে যখন কোটি কোটি ডলার খরচ করছিল সরকার, তখন স্বাস্থ্য-শিক্ষার অধিকারের দাবিতে অনশন করছিলেন ব্রাজিলের সাধারণ মানুষ।

পুলিশের লাঠি আর নেইমার-বাহিনীর প্রাথমিক জয়যাত্রায় অবশ্য সেই বিক্ষোভের আগুন ছাইচাপা পড়ে যায়।

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গোটা দেশে। শুধুমাত্র সাও পাওলোতেই পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ২০টি বাস। লুঠপাট চলেছে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের দোকানগুলিতে।এমনকি সাও পাওলোতে ব্রাজিলের পতাকা পোড়াতে দেখা যায় বিক্ষুব্ধ সমর্থকদের।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রিও ডি জেনিরোর কোপাকাবানার সৈকতে বিক্ষোভরত মানুষকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পুলিশ। এমনকি পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে শহরের বিভিন্ন জায়গায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

চলতি বছর অক্টোবরেই ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। দিলমা আশা করেছিলেন, বিশ্বকাপ আয়োজনের মাধ্যমেই ঘুরে দাঁড়াবে দেশের অর্থনীতি। তার আশ্বাস ছিল, ‘কাপের পর কাপ’ আসবে দেশে। গত ১২ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ এবং তার পর থেকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত ব্রাজিলের দৌড়ে ক্রমে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছিলেন দিলমা এবং তার অনুগামী রাজনৈতিক মহল।

আগামী সোমবার বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হওয়ার পরেই শুরু হয়ে যাবে দিলমার নির্বাচনী প্রচার। ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রাজিলের প্রাক্তন এবং সব চেয়ে সফল প্রেসিডেন্ট, ওয়ার্র্কার্স পার্টির লুলা ডিসিলভার যোগ্য উত্তরসূরির মর্যাদা রাখতে পারেননি দিলমা। বামপন্থী লুলার সময় ব্রাজিল বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম অর্থনীতির সম্মান পেয়েছিল। দিলমার সময়ে তা তলানিতে এসে ঠেকেছে।

মুদ্রাস্ফীতির সমস্যায় জর্জরিত উন্নয়নশীল এই দেশ। বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রশ্নেই যেখানে তেতে উঠেছিল দেশের মানুষ, সেখানে বজ্রপাতের মতো এই হার তাদের আরও খেপিয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে গিয়ে হয়তো যার মাসুল দিতে হবে দিলমাকে।

সম্প্রতি এক জনমত সমীক্ষায় সঙ্কেত মিলেছে, খুব একটা নিরাপদ অবস্থায় নেই ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট। প্রধান প্রতিপক্ষ তথা সেনেটর এসিও নাভাস কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেন তাকে।

এএসএ/