‘করের বোঝা না বাড়িয়ে আওতা বাড়াতে হবে’

0
49
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ
জাতীয় মূসক দিবস উপলক্ষে সর্বোচ্চ মূসক প্রদানকারীদের সম্মননা প্রদান অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ
জাতীয় মূসক দিবস উপলক্ষে সর্বোচ্চ মূসক প্রদানকারীদের সম্মননা প্রদান অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, করদাতাদের ওপর করের বোঝা না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়াতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় মূসক দিবস উপলক্ষে সর্বোচ্চ মূসক প্রদানকারীদের সম্মননা প্রদান অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

সেইসাথে করদাতাদের হয়রানি বন্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সারাদেশে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট প্রদানকারী ১২২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, করদাতাদের ওপর করের বোঝা না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়াতে হবে। করদাতা ও কর আহরণে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক বাড়লে মানুষ কর দিতে আগ্রহী হবে। করদাতারা যেন কোনো প্রকার বাড়াবাড়ির কিংবা হয়রানির শিকার না হন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা প্রতিবেশী অন্যন্য দেশের তুলনায় অনেক ভালো জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি আয় এখন ৩০.১ বিলিয়ন ডলার। ১৯৭২ সালে এর পরিমাণ ছিল মাত্র ২৪৮ মিলিয়ন। প্রতিবেশী পাকিস্তানের রপ্তানি আয় এখনো মাত্র ১০ বিলিয়ন ডলার।

বাজেটকে উচ্চাভিলাসী বলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলামের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তার আমলে দুই বার বাজেট হয়েছে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৯৯ হাজার ৯৬২ কোটি টাকার বাজেট ছিলো। এরমধ্যে উন্নয়ন ব্যয় মাত্র ২৫ হাজার ৬ শ কোটি টাকা। পরবর্তী বছরও একই পরিমাণ বাজেট ছিলো। দেশ পরিবর্তন হয়েছে, অর্থনীতি পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু তিনি বাজেট পরিবর্তন করতে পারেননি।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার বাজেট পরিবর্তন করতে পেরেছে আর বাস্তবায়নও করেছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিএনপির হরতাল অবরোধের পরও ২ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকার বাজেটে মাত্র ৬ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা কম হয়েছে। এবার রাজনৈতিক অস্থিতিশীল না থাকায় বাজেট বাস্তবায়ন হবে।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের আগে বিএনপি তাদের আন্দোলনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়েছিল। কিন্তু সফল হতে পারেনি। ঈদের পর আন্দোলনের হুমকি দিলেও তা সম্ভব হবে না। নির্বাচনে না এসে খালেদা জিয়া ভুল করেছেন। তাকে আবার ৫ বছর ধৈর্য ধরতে হবে।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, এফবিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী, এনবিআরের মূসক নীতির সদস্য ব্যরিস্টার জাহাঙ্গির হোসেনসহ এনবিআরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।